নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২৭০ জনে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার নেপালের পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে।
এএফপি জানিয়েছে, এর আগে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভূমিধসে তিনজন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল। ফলে দুই পাশে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ২৭৩ জনে।
রয়টার্স বলছে, বন্যার পর নেপালের দুর্গত এলাকায় নিখোঁজ বিদেশিদের সংখ্যা নিয়ে নতুন তথ্য আসছে। নেপালের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধারকারীরা বন্যাকবলিত এলাকা থেকে নিখোঁজ প্রায় ১০০ ভারতীয় এবং ২৫ জন চীনা নাগরিককে খুঁজে পেয়েছেন। তবে নতুন তথ্য আসায় নিখোঁজের মোট সংখ্যা এখনো পরিবর্তিত হচ্ছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নেপালের বন্যাকবলিত এলাকায় প্রায় ১০০ চীনা নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে পর্যটক, তীর্থযাত্রী ও অন্যান্য ব্যক্তি রয়েছেন। নিখোঁজ বিদেশিদের জাতীয়তাভিত্তিক বিস্তারিত তথ্য এখনো যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান।
এদিকে নেপাল ও চীনের তিব্বতজুড়ে এখনো ৭০০ জনের বেশি বিদেশি নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর আগে দিনের শুরুতে এ সংখ্যা প্রায় ৮০০ ছিল। নেপালে নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ভারতের ১৭৭, ইউক্রেনের ৫৩, যুক্তরাষ্ট্রের ৬৩, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪, যুক্তরাজ্যের ৩৩, কানাডার ২৫ এবং জার্মানির অন্তত আটজন নাগরিক রয়েছেন।
এ ছাড়া, নেপালে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত নয়জন নিখোঁজ রয়েছেন এবং আরও ১০ জন সেখানে আটকা পড়েছেন। জাপানের পাঁচ নাগরিকের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারেনি দেশটির দূতাবাস।
নেপালের উদ্ধার অভিযানে পাঁচ হাজারের বেশি সেনা ও পুলিশ সদস্য অংশ নিয়েছেন। নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেত জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার তারা ১২৫ জনকে উদ্ধার করেছেন। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে ২০ জন বিদেশি নাগরিক।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে হেলিকপ্টারে করে তাঁবু, খাবার ও অন্যান্য জরুরি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এসব সহায়তা দিয়েছে প্রতিবেশী ভারত।

