ট্রেন দুর্ঘটনার জন্য কন্ট্রোলারদের ‘ভুল’ নির্দেশনাকে দায়ী করলেন স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী

স্পেনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে ৬৮ জন নিহতের ঘটনায় দেশটির পরিবহনমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই দুর্ঘটনা ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের ‘অবিবেচনা’র কারণে ঘটে থাকতে পারে।

তারা দ্রুতগতির একটি ট্রেনকে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন, অথচ তখন ওই একই লাইনে আরেকটি ট্রেন দাঁড়িয়েছিল।

মন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেছেন বলে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মন্ত্রী দুর্ঘটনার পুনর্চিত্রায়ণ পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং মাদ্রিদের কন্ট্রোল সেন্টার ও ট্রেনের চালকদের মধ্যে কথোপকথনের রেকর্ডগুলোও মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দুর্ঘটনার আগের পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা দেন।

মন্ত্রী জানান, স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কম্পিউটারের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা ট্রেনের স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিকল হয়ে পড়ে।

এই ট্রেন চলাচলের ‘লিনিয়েনজুগবিনফ্লুসুন’ (এলজেডবি) নামের পুরোনো প্রযুক্তিটি ষাটের দশকে তৈরি। ট্র্যাক সার্কিট এবং এক্সেল কাউন্টারের মতো প্রযুক্তির মাধ্যমে এটি ট্রেনের গতি ও অবস্থান নজরে রাখে।

এর তথ্যের ভিত্তিতেই সিস্টেমটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাব করে যে একটি ট্রেন কতটা দ্রুত ও নিরাপদে চলতে পারবে। সেই অনুযায়ী এই সিস্টেম সংকেত পরিবর্তন করে।

প্রায় ৬৩ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথে ব্যবস্থাটি অকেজো হয়ে পড়ে। তাই সতর্কতা হিসেবে ওই পথে চলাচলকারী ছয়টি ট্রেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে থামিয়ে দেওয়া হয়।

মন্ত্রী জানান, এরপরই পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ চলে যায় মাদ্রিদের কন্ট্রোল সেন্টারের হাতে।

তিনি জানান, কন্ট্রোল সেন্টারের সঙ্গে আলোচনার পর সকাল ৮টা ৩৬ মিনিটে সিদ্ধান্ত হয়, দ্রুতগতির ওই ট্রেন স্বাভাবিক যাত্রা চালিয়ে যাবে, যেটি ইরিও নামের স্থির ট্রেনটিকে পরে ধাক্কা দেয়।

মন্ত্রী আরও জানান, স্পেনের সরকারি রেল অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ‘আদিফ’-এর ট্রাফিক কন্ট্রোলাররা চলন্ত ট্রেনটিকে তাদের পূর্বনির্ধারিত যাত্রা পুনরায় শুরু করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, অথচ তখন এর সামনেই আরেকটি ট্রেন দাঁড়িয়ে ছিল।

তিনি জানান, যে ট্রেনকে পেছন থেকে ধাক্কা দেওয়া হয়েছে, সেটির চালককেও ট্রাফিক কন্ট্রোল থেকে এগিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কোনো কারণে সেটি আর চলতে পারেনি। ঠিক সেই মুহূর্তেই চলন্ত ট্রেনটি গিয়ে স্থির ট্রেনকে সজোরে ধাক্কা দেয়।

মন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে বলেন, এভাবেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

‘নিয়ম অনুযায়ী চলন্ত ট্রেনটিকে সেই মুহূর্তেই থামিয়ে দেওয়া উচিত ছিল,’ যোগ করেন তিনি।

মাদ্রিদ-সেভিল রুটে বর্তমানে আধুনিকায়ন কাজ চলছে, যার আওতায় পুরোনো এলজেডবি সিস্টেমের বদলে আরও উন্নত ইউরোপিয়ান রেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বসানো হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা, নতুন এই সিস্টেম চালুর ফলে সিগন্যালিংয়ের ক্ষেত্রে মানুষের ভুল অনেকাংশে কমে আসবে।

মন্ত্রী আরও জানান, কন্ট্রোল সেন্টার যখন পেছনের ট্রেনটিকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়, তখন অন্য একটি ট্রেনের চালক বিপদ বুঝতে পেরে কন্ট্রোল রুমকে সতর্ক করার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি কন্ট্রোল অপারেটরকে পরামর্শ দেন, ট্রেনগুলো যেন স্বাভাবিকের চেয়ে ধীরগতিতে চালানো হয়। তখন ওই অপারেটর নিজের ভুল বুঝতে পেরে স্বীকার করেন, ‘ওহ, হ্যাঁ’।

Related Articles

Latest Posts