আয়কর বাবদ প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা পুনর্নির্ধারণ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আদেশের বিরুদ্ধে গ্রামীণ কল্যাণের করা দুটি রিট খারিজ করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় আপাতত বহাল রেখেছেন চেম্বার আদালত।
হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে গ্রামীণ কল্যাণের করা দুটি আবেদন আজ সোমবার কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন আপিল বিভাগেরে চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।
রায়ের বিরুদ্ধে ‘লিভ টু আপিল’ আবেদন করার সুযোগ পাওয়ার আগ পর্যন্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত রাখার আবেদন করা হয়েছিল।
তবে চেম্বার আদালতের বিচারক মৌখিকভাবে সরকারকে বলেছেন, হাইকোর্টের রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি পাওয়ার পর গ্রামীণ কল্যাণকে লিভ টু আপিল আবেদন করার সুযোগ দিতে এবং ততদিন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ না করতে।
গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন দ্য ডেইলি স্টারকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিষ্ঠিত অলাভজনক ও জনকল্যাণমূলক সংস্থা গ্রামীণ কল্যাণ।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুস সামাদ আজাদ ডেইলি স্টারকে বলেন, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে আয়কর আদায়ে এনবিআর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারবে না।
গত ১০ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ কর বছরের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের আয়কর প্রায় ৬৬৬ কোটি টাকা পুনর্নির্ধারণ করে এনবিআরের দেওয়া আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে করা দুটি রিট খারিজ করে দেন।
ওইদিন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুস সামাদ আজাদ বলেন, রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি পাওয়ার পর এনবিআর ৬৬৬ কোটি টাকা পরিশোধের জন্য গ্রামীণ কল্যাণকে নোটিশ পাঠাবে।
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বিচারপতি খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত আরেকটি হাইকোর্ট বেঞ্চ একই রিট আবেদনগুলো খারিজ করেন। পরে বিচারপতি খুরশীদ আলম সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্তের পর সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের সুপারিশে তাকে অপসারণ করা হয়।
ওই বেঞ্চ ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট রায়টি প্রত্যাহার করে এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সিদ্ধান্তের জন্য ওই বছরের ৮ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের কাছে পাঠান।
২০২৪ সালে গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী সারদার জিন্নাত আলী ডেইলি স্টারকে বলেন, বেঞ্চটি রায় প্রত্যাহার করেছিল, কারণ বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারক এস এম মনিরুজ্জামান আগে আইনজীবী হিসেবে মামলাটির সঙ্গে যুক্ত থাকায় রায় লিখতে বিব্রত বোধ করেছিলেন।
পরে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি রিট আবেদনগুলো নতুন করে শুনানির জন্য বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে পাঠান।

