সুটকেসের ভেতর নারীর মরদেহ: নিহতের পরিচয় ও হত্যার কারণ নিয়ে যা জানাল পিবিআই

গাজীপুর সদর উপজেলায় খালে পড়ে থাকা সুটকেসের ভেতর থেকে এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

আজ সোমবার দুপুরে পিবিআই গাজীপুর জেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার (এসপি) মো. রকিবুল আক্তার।

গ্রেপ্তার ৩ জন হলেন—মিশন ইসলাম (২২), তার মা বানু আক্তার (৪৩) ও সহযোগী মিজানুর রহমান মিল্টন (২৪)।

এসপি মো. রকিবুল আক্তার বলেন, নিহত নারীর নাম ডলি আক্তার। অর্ধগলিত থাকায় প্রথমে তার পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন ছিল। তবে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও নিবিড় অনুসন্ধানের মাধ্যমে দ্রুতই তার পরিচয় নিশ্চিত করে ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।

গত ১১ সেপ্টেম্বর বিকেলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে খালের পানিতে সুটকেস ও প্লাস্টিকের বস্তা ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ সেখান থেকে অজ্ঞাত এক নারীর দ্বিখণ্ডিত ও অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে।

পরদিন ১২ সেপ্টেম্বর নিহতের বড় ভাই সোহেল বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে ওই দিন বিকেলে বাহাদুরপুর তুলসীভিটা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, নিহত ডলি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার পাহাড়পাবিজান গ্রামের বাদশা মিয়ার মেয়ে। স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর তিনি গাজীপুর সদর উপজেলার জয়দেবপুর থানার বানিয়ারচালা মেম্বারবাড়ী এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। তিনি বাঘের বাজার এলাকার গোল্ডেন রিপিট গার্মেন্টসে সুইং অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন।

এসপি মো. রকিবুল আক্তার জানান, পাঁচ বছরের প্রেমের সম্পর্ক, বিয়ে নিয়ে বিরোধ ও জমে থাকা ক্ষোভের জেরে ডলিকে হত্যা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজনই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় অন্য কারও সম্পৃক্ততা আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পিবিআই জানায়, আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিশনের বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা-বটি, স্কচটেপের অবশিষ্টাংশ, নিহতের জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও এক জোড়া জুতা উদ্ধার করা হয়েছে।

Related Articles

Latest Posts