গোল উৎসব করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বার্সেলোনার দুরন্ত শুরু

বৃষ্টিস্নাত ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আক্রমণের বন্যা বইয়ে দিল স্প্যানিশ পরাশক্তি বার্সেলোনা। তাদের দাপটের বিপরীতে ডাচ ক্লাব ফেইনুর্ড প্রতিরোধ গড়তে পারল একেবারে সামান্যই। লামিন ইয়ামাল জোড়া অ্যাসিস্টের সঙ্গে পেলেন একটি গোল, রাফিনিয়া জাল খুঁজে নিলেন দুবার। সঙ্গে বাকিদের অবদানে বড় জয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ২০২৬-২৭ মৌসুমে নিজেদের অভিযান শুরু করল কাতালানরা।

বুধবার রাতে ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে অনুষ্ঠিত একপেশে লড়াইয়ে গোল উৎসব করে ৫-১ ব্যবধানে জিতেছে কোচ হান্সি ফ্লিকের দল। দারুণ পারফরম্যান্স উপহার দেওয়া বার্সার বাকি দুই গোলদাতা হলেন করিম আদেইয়েমি ও গ্যাব্রিয়েল জেসুস। সফরকারীদের পক্ষে সান্ত্বনাসূচক গোলটি করেন সেম স্টেইন।

5 official games played.

22 goals scored.

এবারের মৌসুমে গোল করাকে যেন অতি সহজ কাজ বানিয়ে ফেলেছে কাতালানরা! মাঠে নামলেই লক্ষ্যভেদ করছেন রাফিনিয়া-ইয়ামালরা। শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে লা লিগায় চার ম্যাচে দলটি করেছে ১৭ গোল। এর মধ্যে তিনবারই প্রতিপক্ষের (এলচে, রায়ো ভায়েকানো ও ভ্যালেন্সিয়া) জালে পাঁচবার করে বল পাঠিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে তারা। সেই ধারা বজায় থাকল ইউরোপ মহাদেশের শীর্ষ ক্লাব প্রতিযোগিতাতেও। এতে সব মিলিয়ে পাঁচ ম্যাচে ২২ গোল হয়ে গেল বার্সার।

এই ম্যাচে বল দখলের পাশাপাশি আক্রমণেও একক আধিপত্য করে বার্সেলোনা। ৭২ শতাংশ সময় বল পায়ে রেখে গোলমুখে ২৪টি শট নিয়ে নয়টি লক্ষ্যে রাখে তারা। অন্যদিকে, ফেইনুর্ডের নেওয়া মাত্র চারটি শটের দুটি ছিল লক্ষ্যে।

পোলিশ স্ট্রাইকার রবার্ত লেভানদোভস্কির বিদায়ের পর বার্সার আক্রমণভাগের কেন্দ্রস্থলে রাফিনিয়াকে ব্যবহার করছেন ফ্লিক। কোচের আস্থার প্রতিদান এই ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার দিচ্ছেন সম্ভাব্য সেরা উপায়ে। ‘মেকশিফট’ স্ট্রাইকার হিসেবে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে নতুন মৌসুমের পাঁচ ম্যাচের সবকটিতেই জালের দেখা পেলেন তিনি। ফেইনুর্ডের বিপক্ষে তৃতীয় মিনিটেই তার নৈপুণ্যে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ইয়ামালের পাস থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সে দুজনকে ফাঁকি দিয়ে চমৎকারভাবে জাল কাঁপান রাফিনিয়া।

২২তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আদেইয়েমি। বাঁদিকে জোয়াও কানসেলোর পাস পেয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে জোরাল শটে গোল করেন তিনি। প্রথমার্ধ শেষে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বার্সেলোনা।

দ্বিতীয়ার্ধেও একই ধাঁচে খেলতে থাকে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগজয়ীরা। ৫৭তম মিনিটে পেদ্রির পাস ধরে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে ফেইনুর্ডের ঘুরে দাঁড়ানোর আশা একরকম শেষ করে দেন ছন্দের চূড়ায় থাকা রাফিনিয়া। চলতি মৌসুমে সব মিলিয়ে এটি তার অষ্টম গোল।

৭৭তম মিনিটে তরুণ স্প্যানিশ উইঙ্গার ইয়ামাল ফ্রি-কিক থেকে জাল খুঁজে নিয়ে ব্যবধান আরও বাড়ান। তার দুর্বল শট প্রতিপক্ষের রক্ষণদেয়ালের ফাঁক গলে গোলরক্ষক টিয়ার্ক আর্নস্টকে পরাস্ত করে।

বদলি নামা স্টেইন পাঁচ মিনিট পর স্কোরলাইন ৪-১ করলে উল্লাসের সুযোগ পায় ফেইনুর্ড। তবে তিন মিনিট পরই ফের গোল হজম করে দলটি। বদলি নামার দুই মিনিটের মধ্যে ইয়ামালের ক্রসে হেড করে নিশানা ভেদ করেন জেসুস। বার্সেলোনার জার্সিতে নিজের প্রথম গোলের স্বাদ নিলেন গ্রীষ্মকালীন দলবদলের শেষদিনে আর্সেনাল ছেড়ে আসা এই ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার। ফলে বড় জয়ের আনন্দ নিয়ে মাঠ ছাড়ে জার্মান কোচ ফ্লিকের শিষ্যরা।

Related Articles

Latest Posts