কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা এলাকায় প্রায় ১৪ লাখ ইয়াবা জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সেই সঙ্গে দুই সন্দেহভাজন মাদক চোরাকারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ বুধবার দুপুরে এক অভিযানে এসব ইয়াবা জব্দ করা হয় বলে নিশ্চিত করেন উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম।
গ্রেপ্তাররা হলেন—হ্নীলার জেলেপাড়ার জয়ঘর দাস (৫০) এবং একই এলাকার ফুলের ডেল গ্রামের মো. হোসাইন (২০)।
আজ সন্ধ্যায় ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে বিজিবি অধিনায়ক জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হ্নীলা সীমান্ত ফাঁড়ির (বিওপি) পাশে সুইচগেট এলাকায় একটি বিশেষ টহল দল অবস্থান নেয়।
তিনি বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে বিপুল পরিমাণ ইয়াবার চালান বাংলাদেশে ঢোকানোর চেষ্টা করছিল পাচারকারীরা। এ কারণে সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি, ড্রোনের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল বলেন, ‘গত ৩ ও ৪ সেপ্টেম্বর চোরাকারবারিরা হ্নীলার আবরাং এলাকা দিয়ে রাতে দুটি ছোট চালান আনার চেষ্টা করেছিল। ওই দুই অভিযানে ৩ লাখ ইয়াবা জব্দ করে বিজিবি।’
‘রাতে মাদক পাচারে ব্যর্থ হয়ে তারা নতুন কৌশল নেয়। এবার দিনের বেলায় জেলে সেজে নৌকায় করে ইয়াবা আনার চেষ্টা করা হয়। সন্দেহজনক গতিবিধি দেখে বিজিবির টহল দল নৌকাটির আরোহীদের চ্যালেঞ্জ করলে তারা পালানোর চেষ্টা করেন। পরে দুজনকে আটক করা হয়,’ যোগ করেন তিনি।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল আরও জানান, বিজিবি সদস্যরা নৌকাটিতে তল্লাশি চালিয়ে প্রথমে কিছুই পাননি। পরে নৌকার পাশে পানিতে হালকা ভাসমান কয়েকটি বস্তা দেখতে পান তারা। বস্তাগুলো দড়ি দিয়ে নৌকার সঙ্গে বাঁধা ছিল।
‘ওই বস্তাগুলোতে ইয়াবার ১৪০টি কার্টন পাওয়া যায়। প্রতিটি কার্টনে ১০ হাজার করে সব মিলিয়ে জব্দ করা ইয়াবার পরিমাণ প্রায় ১৪ লাখ।’
এ বছর মাদকবিরোধী অভিযানে ৬৪ বিজিবি প্রায় ১ কোটি ৪৩ লাখ ইয়াবা জব্দ করেছে। এসব অভিযানে ২৪৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানান লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম।

