উজবেকিস্তানের বিপক্ষে বড় জয়ে নকআউট পর্ব এরই মধ্যে নিশ্চিত হয়ে গেছে পর্তুগালের। তা সত্ত্বেও কলম্বিয়ার বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচে এক চুলও নির্ভার হওয়ার সুযোগ নেই ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর দলের সামনে। কারণ শেষ ম্যাচের ফলাফলের উপরেই নির্ভর করছে নকআউট পর্বে কাদের সামনে পড়তে পারে পর্তুগাল।
ফিফার নতুন ব্র্যাকেট পদ্ধতির কারণে এবার নকআউটের প্রতিপক্ষ নির্ধারণের আগে অনেক হিসাব-নিকাশ সামনে আসছে। সেই হিসাব বলছে, যেকোনো উপায়ে কলম্বিয়ার বিপক্ষে জয়ই চাইবে পর্তুগাল।
‘কে’ গ্রুপে দুই ম্যাচে চার পয়েন্ট নিয়ে আপাতত দ্বিতীয় স্থানে আছে পর্তুগাল। শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ কলম্বিয়া দুই ম্যাচের দুটিতেই জিতে আছে এক নম্বরে। কলম্বিয়াকে হারাতে পারলে পর্তুগালের পয়েন্ট হবে ৭, তখন গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই পরের পর্বে উঠবে দলটি।
ফিফার পূর্ব নির্ধারিত ব্র্যাকেট অনুযায়ী, কে গ্রুপের শীর্ষ দল রাউন্ড অব ৩২ এ খেলবে ডি/ই/আই/জে/এল গ্রুপ থেকে আসা সেরা তৃতীয় দলের সাথে। ডি গ্রুপের তৃতীয় স্থানে থাকা প্যারাগুয়ের খেলা ইতিমধ্যে জার্মানির সাথে নিশ্চিত হয়েছে। সেক্ষেত্রে পর্তুগাল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলে রাউন্ড অব ৩২ এর প্রতিপক্ষ হতে পারে ইকুয়েডর, সেনেগাল, অস্ট্রিয়া, আলজেরিয়া, ঘানা কিংবা ক্রোয়েশিয়ার মধ্যে যেকোনো একটি দল।
আবার রাউন্ড অব ৩২ এর বাধা পার হতে পারলে শেষ ষোলতে সামনে পড়তে পারে সুইজারল্যান্ড। আর সুইজারল্যান্ড যদি রাউন্ড অব ৩২ এই হেরে যায়, তবে সুইসরা যাদের কাছে হারবে (প্রতিপক্ষ এখনও নির্ধারিত হয়নি), তারাই হবে পর্তুগালের প্রতিপক্ষ।
কিন্তু পর্তুগাল যদি কলম্বিয়ার কাছে হেরে যায় বা ড্র করে, তাহলে নকআউট পর্বে বেশ শক্তিশালী দল মোকাবেলা করতে হতে পারে রোনালদোদের। ফিফার ব্র্যাকেট অনুযায়ী, ‘কে’ গ্রুপের রানার্সআপ দল রাউন্ড অব ৩২ এ খেলবে ‘এল’ গ্রুপের রানার্সআপ দলের সাথে।
যেহেতু ‘এল’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন কিংবা রানার্সআপ কোনোটিই এখনও নির্ধারিত হয়নি, তাই ইংল্যান্ড, ঘানা কিংবা ক্রোয়েশিয়া- এই তিন দলের মধ্যে যেকোনো একটির সাথে খেলা পড়বে রোনালদোর দলের। ইংল্যান্ড যদি পানামার বিপক্ষে পয়েন্ট হারায়, আর ঘানা-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে যেকোনো এক দল জিতে যায়, তাহলে রাউন্ড অব ৩২ এই পর্তুগাল-ইংল্যান্ড হেভিওয়েট ম্যাচ পড়ে যেতে পারে।
আর এই বাধা টপকে গেলে শেষ ষোলতে পর্তুগালের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে আসরের অন্যতম ফেভারিট হিসেবে বিবেচিত স্পেন। পর্তুগাল তাই কলম্বিয়ার বিপক্ষে জিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়াকেই শ্রেয় মনে করতে পারে।
তবে এখনই এত দূরের কথা চিন্তা করতে চাইছেন না পর্তুগিজ উইঙ্গার পেদ্রো নেতো। আপাতত কলম্বিয়া ম্যাচেই পূর্ণ মনোযোগ রাখছেন তারা, ‘আমরা গ্রুপে দ্বিতীয় বা তৃতীয় হলে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ কারা হতে পারে, আমরা এ বিষয়ে একবারও আলোচনা করিনি, এটি বললে মিথ্যা বলা হবে। তবে আমরা পর্তুগিজরা এসব নিয়ে খুব বেশি মাথা ঘামাই না। আমাদের মানসিকতাই হলো সবসময় সেরা হওয়া। আমরা আপাতত কলম্বিয়া ম্যাচ নিয়েই চিন্তা করছি’।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে লাতিন আমেরিকা দলগুলোর বিপক্ষে পর্তুগালের রেকর্ড মিশ্র অভিজ্ঞতার। লাতিন দলগুলোর বিপক্ষে সমান ৩টি করে জয়, হার ও ড্র রয়েছে তাদের। তবে কলম্বিয়ার বিপক্ষে এই প্রথম বিশ্বকাপে ম্যাচ খেলবে পর্তুগাল।

