কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের একটি সংগঠনের আপত্তির পর বিকল্প ভেন্যুতে সোমবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলের বাসভবনে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের নেতাদের মধ্যে বৈঠকের পর ভেন্যু পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সোমবার বিকেলে কলেজের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে ব্যান্ড ‘হাইওয়ে’র পরিবেশনায় কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়। এতে কলেজের শত শত শিক্ষার্থী ও আশপাশের এলাকার তরুণরা অংশ নেন। শান্তিপূর্ণভাবেই অনুষ্ঠান শেষ হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম, বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা জহিরুল হক খোকন এবং সাবেক মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম ওবায়দুল হক।
এর আগে কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে পরিকল্পিত কনসার্ট বাতিলের দাবিতে সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছিল কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ।
শনিবারের বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত হয়, নবীনবরণ, আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি মূল ক্যাম্পাসে এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দক্ষিণ ক্যাম্পাসে আয়োজন করা হবে।
স্মারকলিপিতে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ বলেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ঐতিহাসিকভাবে ইসলাম, ইলম, আলেম-ওলামা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি জনপদ। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নবীনবরণ ও উৎসব আয়োজন স্বাভাবিক হলেও তা যেন শিক্ষার পরিবেশ, সামাজিক শৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা এবং স্থানীয় ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়।
এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অতীতে কনসার্ট ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ঘিরে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার কথাও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী কলেজের মূল ভবনের পাশের মাঠে নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি চলছিল। মাঠটি কলেজের নয়; একই চত্বরে অবস্থিত নিয়াজ মোহাম্মদ উচ্চবিদ্যালয়ের। সেখানে অনুষ্ঠান আয়োজন নিয়ে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের আপত্তির পর আমরা ভেন্যু পরিবর্তন করি। পরে নিয়াজ মোহাম্মদ উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠের পরিবর্তে কলেজের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।’
জেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সমীর চক্রবর্তী বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া কিংবদন্তি সংগীতজ্ঞ ওস্তাদ আলাউদ্দিন খানের জন্মস্থান এবং বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিত। আলোচনার মাধ্যমে কনসার্ট নিয়ে তৈরি হওয়া বিরোধের সমাধান হয়েছে।

