এবারের বিশ্বকাপে মাঠের বাইরের ভোগান্তি যেন দলগুলোর পিছু ছাড়ছে না। ভোগান্তির তালিকায় সবশেষ সংযোজন উরুগুয়ে। নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে আসার কথা ছিল উরুগুয়ের। কিন্তু বিমানের নথিপত্রজনিত জটিলতায় বেশ কয়েকবার ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্ব হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে মায়ামিতে পৌঁছেছে গোটা উরুগুয়ে দল।
সৌদি আরবের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচের আগে মেক্সিকোর রাজধানী কানকুন থেকে মায়ামির ফোর্ট লডারডেলে যাওয়ার কথা ছিল মার্সেলো বিয়েলসার শিষ্যদের। কিন্তু বিমানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় সেই ফ্লাইট বাতিল হয়ে যায়।
এরপর দ্বিতীয় আরেকটি বিমানে করে তাদের মায়ামিতে নেয়ার কথা থাকলেও সেই বিমানও কয়েক ঘণ্টা দেরি করে ছাড়ে। ফলে ম্যাচের আগে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের জন্য নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে পারেনি ল্যাটিন দলটি। প্রথম ম্যাচের আগে ভেন্যুতে অনুশীলন সূচিও জট পেকেছে তাদের।
নথিপত্রজনিত এই জটিলতায় উরুগুয়ে দলের কোনো গাফিলতি ছিল না। বরং বিমান আকাশে ওড়ার আগে যেসব প্রয়োজনীয় কাগজ তৈরি থাকতে হয়, সেগুলো না থাকাতেই এই ভোগান্তি। এর পেছনে ফিফার গাফিলতি আছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে সম্মতিসূচক উত্তর দিয়েছেন উরুগুয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের এক কর্মকর্তা। পরবর্তীতে নিজেদের এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেয়া এক পোস্টে নিজেদের অসন্তুষ্টির কথা প্রকাশ করেছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন।
পুরো ঘটনায় অসন্তুষ্টির ব্যাপারটি কৌশলীভাবে জানিয়েছেন উরুগুয়ের অধিনায়ক হোসে মারিয়া হিমেনেজ। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদে খেলা এই ডিফেন্ডার বলেছেন, ‘আমাদের কিছু অসুবিধা তো হয়েছেই (ফ্লাইট দেরি হওয়ায়)। অভিজ্ঞতাটা খুব একটা সুখকর নয়, তবে আমরা এই সময়টা হোটেলে বিশ্রাম নিয়ে কাটিয়েছি। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে আমাদের বেশ অনেকটাই দেরি হয়েছে’।
তবে বর্ষীয়ান কোচ মার্সেলো বিয়েলসা এসব বিষয়ের প্রভাব নিজেদের অনুশীলনের উপর পড়তে দিতে নারাজ। গত বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে চমক দেখানো সৌদি আরবকে নিয়ে সতর্ক এই আর্জেন্টাইন কোচ, ‘সৌদি আরব সহজ প্রতিপক্ষ হবে না। আমরা বল পায়ে রেখে আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করব’।

