খুলনার ডুমুরিয়ার বরাতিয়া গ্রামে নির্মাণ করা আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোর দেয়ালের পাশ থেকে নদী খননের মাটি সরানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলো মেরামতের কাজও শুরু হয়েছে।
ডুমুরিয়ার ভদ্রা নদীর ঠিক পাশেই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোর অবস্থান। সম্প্রতি নদী খননের মাটি ঘরগুলোর পাশে ফেলা হয়েছিল। দেয়ালের সমান উঁচু করে মাটি ফেলায় এক পর্যায়ে অনেকগুলো ঘরের দেয়ালে ফাটল দেখা দেয়। মাটি পড়ে অনেকের শৌচাগার ও রান্নাঘরে যাওয়ার পথও বন্ধ হয়ে যায়।বিষয়টি নিয়ে গত ১৬ জুন দ্য ডেইলি স্টারে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
ভূমিহীন ও বাস্তুচ্যুত ৪৮টি পরিবারের পুনর্বাসনের জন্য ২০২১ সালে এই আশ্রয়ণ প্রকল্পের এই ঘরগুলো নির্মাণ করা হয়।
শনিবার সরেজমিন এলাকাটি ঘুরে দেখা যায়, অনেকগুলো ঘরের পাশে থাকা বিশাল মাটির স্তূপ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এতে যাতায়াতের রাস্তা, রান্নাঘর ও শৌচাগারগুলো আবারও ব্যবহার করা যাচ্ছে।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা জানান, গত কয়েক দিনে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।
সেখানকার বাসিন্দা ঊর্মি ধর বলেন, ‘বৃষ্টি হলে আমাদের ঘরগুলো ধসে পড়তে পারত। সারাক্ষণ এই ভয়ে ছিলাম। এখন মাটি সরিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জায়গাগুলো মেরামত করা হয়েছে।’
৭৫ বছর বয়সী যমুনা বেগম তার স্বামী টিপু সুলতানকে নিয়ে এই প্রকল্পের একটি ঘরে থাকেন।
তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ঘরের চালের ওপর যখন মাটি পড়ে, ভেবেছিলাম আর এখানে থাকতে পারব না। মনে হচ্ছিল আবার গৃহহীন হতে হবে। সাংবাদিকেরা এসে আমাদের দুর্দশা তুলে ধরায় পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়েছে।’
ভবদহ অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ৮১ কিলোমিটার এলাকায় পানির প্রবাহ উন্নত করার লক্ষ্যে ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ভদ্রা নদী খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পাউবোর তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড এই কাজ করছে।
পাউবোর যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, গত ১৩ জুন ঠিকাদারের কর্মীরা ঘরগুলোর পাশে মাটি ফেলেন। পরদিন সকালে পাউবো বিষয়টি জানতে পারে।
এই কর্মকর্তা বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলোর পাশে ফেলা সব মাটি সরানো হয়েছে। একই সঙ্গে ১৫টি ঘর মেরামত করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে নদী খননের সময় স্থানীয়দের যাতে দুর্ভোগে পড়তে না হয়, সে বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গত ১৬ জুন দ্য ডেইলি স্টারসহ কয়েকটি গণমাধ্যমে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে মাটি ফেলে রাখার দুর্ভোগ নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও পাউবো গত ১৮ জুন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।
পাউবোর অতিরিক্ত মহাপরিচালককে (পশ্চিমাঞ্চল) প্রধান করে এই কমিটি গঠন করা হয়। উভয় সংস্থার কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত এই কমিটিকে সরেজমিন তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আজ রোববার কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

