সাভারের আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকায় হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতিসহ ৭৪ জনকে আসামি করে মামলা করেছে তাহফিজুল কোরআনিল কারিম ফাজিল (স্নাতক) মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
আজ সোমবার আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মাদ্রাসাটির উপপরিচালক (প্রশাসন) সৈয়দ সানজিদ বাদী হয়ে ভোররাতে মামলাটি দায়ের করেন।
‘এজাহারে ১৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ৬০ থেকে ৭০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে,’ বলেন তরিকুল।
হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ইমাম হাসান (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, আসামিদের সঙ্গে মাদ্রাসার মালিকানাধীন মার্কেট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। সেই ধারাবাহিকতায় গতকাল (রোববার) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ইমাম হাসানের হুকুমে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র হাতে বেআইনিভাবে জড়ো হয়য়ে মাদ্রাসা ও মার্কেটে অনধিকার প্রবেশ করে এবং মাদ্রাসা মার্কেট দখলের চেষ্টা চালায়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মাদ্রাসার সিকিউরিটি ইনচার্জ মো. আলতাব হোসেন (৬৫) বাধা দিলে তারা প্রাণনাশের হুমকি দেয়। আসামিরা মাদ্রাসার আসবাবপত্র, দরজা, জানালা ও প্রায় ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে। এতে আনুমানিক ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। এছাড়া মাদ্রাসার লকারে রক্ষিত নগদ ২০ লাখ টাকা, এক লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের দুটি ল্যাপটপ, প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের ১০টি কম্পিউটার মনিটর লুট করে।
মামলায় দুই নম্বর আসামি জাকির হোসেন সাভারের ধামসোনা ইউনিয়ন বিএনপি ভারপ্রাপ্ত সভাপতি।
জাকির হোসেনের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করে আশুলিয়া থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী আব্দুল গফুর বলেন, মামলার বিষয়টি তিনি জানেন না।
জাকির গতকাল ডেইলি স্টারকে বলেছিলেন, ‘সানজিদ একজন সন্ত্রাসী ও মাদকাসক্ত। মাদ্রাসার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি জোরপূর্বক মাদ্রাসাটি দখল করে রেখেছে। তাই এলাকাবাসী আজ তাদের ওখান থেকে বিতাড়িত করেছে।’
নিজেকে মাদ্রাসাটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য বলেও দাবি করেন জাকির। তিনি আরও জানান, তার ছেলে ওই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।
মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে।’

