আল আমিনের নতুন জীবন

সন্ধ্যা নামলেই রংপুর শহরের ব্যস্ত সড়কে প্রতিদিনই ৯ বছর বয়সী ছোট্ট আল আমিনকে দেখা যেত। গলায় ঝোলানো লোহার রিংয়ে সাজানো পপকর্ণের প্যাকেট। চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র আল আমিনের ওপর চেপেছিল সংসারের বোঝা। বৃদ্ধ নানা-নানীর খাবার জোগানো থেকে ওষুধ কেনা–সব দায়িত্বই ছিল তার ছোট্ট কাঁধে।

অবশেষে দিন পাল্টেছে। আল আমিনকে এখন আর এই যুদ্ধে নামতে হবে না। সে এখন মানিকগঞ্জের মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী। গতকাল থেকে শুরু হয়েছে তার জীবনের নতুন পথচলা।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নানা-নানীকে সঙ্গী করে স্কুলে আসে আল আমিন। এসময় প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের সঙ্গে পুরো ক্যাম্পাস ঘুরে দেখে সে। পুরো সময়জুড়ে তার মুখে লেগেছিল তৃপ্তির আনন্দ ও আত্মবিশ্বাস।

গত ১১ এপ্রিল আল আমিনের সংগ্রাম এবং পড়াশোনার প্রতি তার আগ্রহ নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেই প্রতিবেদন প্রকাশের পর তার পড়াশোনা, থাকা-খাওয়াসহ সব দায়িত্ব নেন মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) জহিরুল ইসলাম।

গতকাল আল আমিন নতুন পাঠ্যবই পেয়েছে। তার পড়ালেখার ব্যাপারে অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আল আমিন এখানে আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে এইচএসসি পর্যন্ত পড়তে পারবে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেও তাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। আমরা চাই, সে অনুকূল পরিবেশে সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা নিয়ে এগিয়ে যাক।’

তিনি আরও বলেন, ‘আল আমিনকে নিয়ে আমারও অনেক স্বপ্ন আছে। আমার বিশ্বাস, সে নিজে প্রতিষ্ঠিত হয়ে তার মতো আরও অনেক অসহায় শিশুর পাশে দাঁড়াবে।’

আল আমিনকে স্কুলে রাখতে এসে নানী রাবেয়া খাতুন বলেন, ‘আমি চাই, সে লেখাপড়া করে অনেক বড় মানুষ হোক। এখন এটিই আমার সবচেয়ে বড় চাওয়া।’

আল আমিন রাতে রংপুর রেল স্টেশনে পপকর্ণ বিক্রি করে দিনে স্টেশনের পাশের পথশিশুদের জন্য প্রতিষ্ঠিত জুম বাংলাদেশ স্কুলে পড়াশোনা করত। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসিফ মাহমুদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আল আমিন যে দেশের সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটিতে পড়ার সুযোগ পেয়েছে এটি আমাদের জন্য গর্বের। আমরা বিশ্বাস করি, সে একদিন নিজের স্বপ্ন পূরণ করবে।’

Related Articles

Latest Posts