রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তার বাবা ও মামলার বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লা। তিনি বলেন, ‘আর কোনো বাবা-মায়ের বুক যেন এভাবে খালি না হয়।’
আজ মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিতে এসে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। এদিন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন তার সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।
রামিসার বাবা বলেন, ‘আমি আদালতের কাছে আমার নিষ্পাপ সন্তানের ওপর সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও বর্বরোচিত ধর্ষণের ঘটনার সুষ্ঠু ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করি। একইসঙ্গে এই বিচারের দ্রুত কার্যকর বাস্তবায়ন দেখতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি চাই না, আর কোনো বাবা-মায়ের বুক এভাবে খালি হোক, কোনো পরিবার সন্তান হারানোর বেদনায় ভেঙে পড়ুক কিংবা বিচার চেয়ে আদালতের বারান্দায় দাঁড়াতে বাধ্য হোক।’
রামিসার বাবা ছাড়াও আজ যাদের সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তলব করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন—প্রধান আসামি সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডকারী ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসক, আলামত সংগ্রহকারী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রতিবেশীরা।
এর আগে সকালে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে নিয়ে আসা হয়। শুনানির সময় ট্রাইব্যুনালে হাজির করার আগ পর্যন্ত তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছিল।
এর আগে গতকাল সোমবার এই ট্রাইব্যুনাল সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আদেশ দেন। একই সঙ্গে আদালত মামলার ১৭ জন সাক্ষীকে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তলব করেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৯ মে প্রতিবেশী ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা আব্দুল হান্নান মোল্লার মেয়ে রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যা করে।
এরপর ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপা আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১৯ মে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসাকে প্রতিবেশী সোহেল রানা কৌশলে নিজের ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে অপরাধ ঢাকতে সে শিশুটির গলা কেটে হত্যা ও লাশ টুকরো করার চেষ্টা চালায়। ঘটনার পরদিন সোহেলের ঘর থেকে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ওইদিন ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ স্বপ্নাকে আটক করতে পারলেও সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়। পরে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

