বাণিজ্য চুক্তির ৯৯ শতাংশ নিয়ে নয়াদিল্লি-ওয়াশিংটন একমত: ভারত

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তির প্রথম ধাপের আলোচনা প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। 

চুক্তির প্রায় ৯৯ শতাংশ বিষয় নিয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল।

আজ মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধিদল নয়াদিল্লিতে তিন দিনের আলোচনা শুরু করেছে। 

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। 

দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চের নেতৃত্বে আসা প্রতিনিধিদলটি ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনা করছে।

সোমবার রাতে দিল্লিতে গণমাধ্যমকে গয়াল বলেন, ‘প্রায় ৯৯ শতাংশ বিষয় নিষ্পত্তি হয়েছে।’

গত ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশ বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছিল। 

তবে পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা শুল্ক বাতিল করে আদালত রায় দেয়। যার ফলে আলোচনা কিছুটা ধীর হয়ে যায়।

এরপর ট্রাম্প প্রশাসন ভারতসহ কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে অন্যায্য বাণিজ্যচর্চার অভিযোগে তদন্ত শুরু করে। 

একইসঙ্গে আদালতের রায় মেনে ১০ শতাংশ সাধারণ শুল্ক বহাল রাখে ট্রাম্প প্রশাসন। 

গয়াল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক আইনি পরিবর্তনগুলো চুক্তির চূড়ান্ত খসড়ায় কীভাবে প্রতিফলিত হবে, তা এখন সংশ্লিষ্টরা খতিয়ে দেখছেন। 

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির প্রথম ধাপ খুব শিগগির সই করতে পারব বলে আমি পুরোপুরি আশাবাদী।’

তবে প্রথম ধাপের পর আরও বিস্তৃত ও সমন্বিত একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলবে বলেও জানান তিনি।

গয়ালের ভাষায়, এখন মূলত ‘কমা-ফুলস্টপের মতো ছোটখাটো বিষয়’ নিয়ে আলোচনা চলছে।

গত সপ্তাহে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর বলেছিলেন, অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তিটি ‘আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই’ সই হতে পারে।

ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি ২০৩০ সালের মধ্যে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ৫০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

এ লক্ষ্য সামনে রেখে বাজারে প্রবেশাধিকার ও শুল্কসংক্রান্ত বিরোধ মেটাতে গত মার্চ থেকে একাধিক দফা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে দুই দেশ।

ভারতের দাবি, প্রস্তাবিত চুক্তিতে দেশটির সংবেদনশীল দুগ্ধ ও কৃষিপণ্য খাতের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা হয়েছে।

একই সঙ্গে এটি ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য ৩০ ট্রিলিয়ন ডলারের একটি বৃহৎ বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করবে।
 

Related Articles

Latest Posts