আমার সমগ্রটাই রবীন্দ্রনাথ: অনিমা রায়

রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান অনিমা রায় মনে করেন, তার জীবন, শিল্পচর্চা ও অর্জনের পুরোটা জুড়েই রয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। দীর্ঘ সাধনা, অধ্যবসায় ও রবীন্দ্রসংগীতের প্রতি একনিষ্ঠ ভালোবাসাই তাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

অনিমা রায় সংগীতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন বিভিন্ন সম্মাননা ও শ্রোতাদের ভালোবাসা। সম্প্রতি দ্য ডেইলি স্টারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি কথা বলেছেন নিজের শিল্পজীবন ও দর্শন এবং রবীন্দ্রনাথ নিয়ে।

অনিমা রায় বলেন, ‘আমার জীবনজুড়ে রবীন্দ্রনাথ। যেভাবেই বলি না কেন, আমাকে যদি সমগ্র ধরি, তাহলে তার পুরোটাই রবীন্দ্রনাথ ধারায় প্রভাবিত। এ জন্য নিজেকে এভাবে বলি, আমার সবটাই রবীন্দ্রনাথ দিয়ে ঘেরা।’

নিজের পথচলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমি কেরানীগঞ্জের মানুষ। সেখান থেকে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছি। রবীন্দ্রনাথের গান বেছে নিয়েছি। কাজেই, যা কিছু অর্জন করেছি, তার সবই রবীন্দ্রনাথের।’

শিল্পচর্চার পেছনের দীর্ঘ সাধনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি লেগে ছিলাম, চর্চা করেছি, এখনো করি। লোভ-লালসা সব ত্যাগ করে রবীন্দ্রনাথের গানের সঙ্গে আছি। সেজন্য আমি মনে করি, জীবনের যা কিছু প্রাপ্তি, তার একমাত্র কারণ রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির পথে আছি বলে।’

রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টি জীবনে কীভাবে প্রভাব ফেলেছে, সে বিষয়ে অনিমা রায় বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথের গান বলি বা সৃষ্টি বলি—সবকিছু আমাকে আনন্দ দেয়। আমার দিনটাকে সুন্দর করে। আমার পথচলাকে সুন্দর করে। জীবনকে যাপন করা যায় তার সৃষ্টির পথে হাঁটছি বলে। জীবনকে চেনা যায় তার সৃষ্টিকে গভীরভাবে ভালোবাসি বলে।’

তিনি মনে করেন, মানুষের জীবন আরও সুন্দর হতে পারে যদি রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করা যায়।

নতুন প্রজন্মের প্রতি অনিমা রায়ের আহ্বান, ‘বাঙালিত্ব উদযাপন করার জন্যই রবীন্দ্রনাথ ও তার সৃষ্টি গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রজন্মকে তার সম্পর্কে জানা খুব দরকার। তাহলে নিজেকে সুন্দর করে জানা যাবে, চেনা যাবে, বোঝা যাবে।’

প্রকৃতি ও জীবনবোধের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের সম্পর্ক তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমার আনন্দ লাগে, আমি রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিকে ভালোবাসি। তার পথেই হাঁটছি। আনন্দ লাগে, তার সৃষ্টি ভালোবাসি বলে ধানখেত, ঘাস দেখে আনন্দিত হই। শান্তির পথ চেনাতে হলে সবার দায়িত্ব তার সৃষ্টি পড়া, জানা ও ভালোবাসা।’

রবীন্দ্রনাথের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তিনি সব সময়ই বর্তমান। শান্তির পথ চেনাতে হলে সবার দায়িত্ব তাকে বেশি বেশি জানা, পড়া। বড় কথা হচ্ছে, রবীন্দ্রনাথকে কোনোভাবেই হেয় করা যাবে না। তিনি আছেন, থাকবেন।’

রবীন্দ্রনাথকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে একটি ব্যতিক্রমী উপমাও ব্যবহার করেন অনিমা রায়। বলেন, ‘শিশুরা যখন খেতে চায় না, তখন অন্য খাবার দেওয়া হয়, যে খাবারে বেশি প্রোটিন আছে। রবীন্দ্রনাথ তেমন একটি প্রোটিন, যা লাগবেই। তাকে বাদ দিয়ে সুস্থ থাকা সম্ভব না। আর তাকে নিয়েই পথ চলছি, এজন্যই বেশি ভালো লাগে।’

তিনি বলেন, ‘আরও সচেতনভাবে তাকে পড়তে হবে, ভাবতে হবে, গবেষণা করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, প্রতিদিন যে শক্তি পাই, তা কেবল তার সৃষ্টি থেকেই পাই।’

সবশেষে প্রিয় রবীন্দ্রসংগীত সম্পর্কে জানতে চাইলে অনিমা রায় বলেন, ‘আমার মুক্তি আলোয় আলোয়—এই গানটি আমাকে প্রবলভাবে টানে। এই গানটি ভীষণ প্রিয়। সব গানই প্রিয়। কিন্তু এই গানটি সবচেয়ে পছন্দ। যেকোনো সময় এই গানটি আমাকে টানে, শক্তি যোগায়।’

Related Articles

Latest Posts