আবুল হায়াতের চোখে মুস্তাফা মনোয়ার

প্রখ্যাত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ার দেশের শিল্প-সংস্কৃতির জগতে রেখে গেছেন অসামান্য অবদান। সম্প্রতি তিনি না–ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। তাকে স্মরণ করে দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন গুণী অভিনেতা আবুল হায়াত।

আবুল হায়াত বলেন, ‘১৯৭০ সালে মুস্তাফা মনোয়ারের নির্দেশনায় টেলিভিশনে দুটি নাটকে অভিনয় করেছিলাম। একটি ছিল ডাকঘর, অন্যটি মুক্তধারা। সেই যে পরিচয় হয়েছিল, তা যুগ যুগ ধরে অটুট ছিল। তখন থেকেই বুঝেছি তিনি কতটা জ্ঞানী ও সংস্কৃতিবান মানুষ ছিলেন। এমন বড় মাপের মানুষ পাওয়া সত্যিই কঠিন।’

তিনি আরও বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রক্তকরবী তার অসাধারণ একটি নির্মাণ। নাটকটি নির্মাণ করে তিনি ব্যাপক সাড়া ফেলেছিলেন। তিনি খুব করে চেয়েছিলেন আমি যেন রক্তকরবীতে অভিনয় করি। কিন্তু অন্য নাটকের ব্যস্ততার কারণে তা সম্ভব হয়নি। তারপরও দেখা হলেই তিনি হাসিমুখে কথা বলতেন। আজও সেই হাসিমাখা মুখ চোখে ভাসে।’

পাপেট শিল্পে মুস্তাফা মনোয়ারের অবদানের কথাও স্মরণ করেন আবুল হায়াত। তিনি বলেন, ‘তিনি শুধু বড়দের জন্য নন, শিশুদের জন্যও নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন। এ কারণেই তাকে আরও বেশি ভালো লাগত। শিশুরাও তাকে ভীষণ ভালোবাসত।’

পারিবারিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘মুস্তাফা মনোয়ার ছিলেন অভিনেত্রী নিমা রহমানের মামা। সে কারণে আমরাও তাকে “মামা” বলেই ডাকতাম। তিনি ছিলেন আমাদের প্রিয় মন্টু মামা। ভীষণ মেধাবী ও প্রতিভাবান একজন মানুষ ছিলেন তিনি। পড়াশোনার প্রতি ছিল গভীর অনুরাগ। পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন, আর ফিরে আসবেন না। তার আত্মার শান্তি কামনা করি।’

মুস্তাফা মনোয়ারের সংগীতপ্রতিভার কথাও তুলে ধরেন আবুল হায়াত। তিনি বলেন, ‘তার গায়কী ছিল অসাধারণ। খুব ভালো গান গাইতে পারতেন। অনেকবার তার গান শুনেছি। নিজের কণ্ঠে তিনি সবাইকে মুগ্ধ করতেন। আমিও বহুবার তার গান শুনে মুগ্ধ হয়েছি।’

শেষে তিনি বলেন, ‘মুস্তাফা মনোয়ার ছিলেন একজন সৃষ্টিশীল মানুষ। জীবনভর সৃষ্টির পেছনেই ছুটেছেন। অসংখ্য ভালো কাজ করে গেছেন। টেলিভিশনের বিকাশে তার অবদান অপরিসীম। পুরো জীবন তিনি শিল্পের জন্য উৎসর্গ করে গেছেন। তার প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা।’

Related Articles

Latest Posts