‘অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা জয়াকে এত দূর এনেছে’

বাংলাদেশ ও ভারতের বাংলা সিনেমার দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। একসময় প্রচুর নাটকে অভিনয় করলেও এক যুগ ধরে কেবল চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন। কাজ করেছেন ওটিটি প্ল্যাটফর্মে। বলিউডেও অভিনয় করেছেন জয়া।

আজ ১ জুলাই জয়া আহসানের জন্মদিন। বিশেষ এই দিন উপলক্ষে দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে জয়া আহসানকে নিয়ে কথা বলেছেন চলচ্চিত্র পরিচালক গিয়াস উদ্দিন সেলিম।

২০০১ সাল থেকে টানা সাত বছর গিয়াস উদ্দিন সেলিমের পরিচালনায় অনেকগুলো নাটকে অভিনয় করেছেন জয়া। এর মধ্যে ‘এনেছি সূর্যের হাসি’, ‘সংশয়’ ও ‘তেভাগা’ নামের তিনটি ধারাবাহিক নাটক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। করেছেন অনেকগুলো একক নাটকও।

জয়া আহসানকে নিয়ে গিয়াস উদ্দিন সেলিম বলেন, ‘একটা সময় জয়া আহসানকে নিয়ে প্রচুর নাটক নির্মাণ করেছি। বিশেষ করে ২০০১ সাল থেকে টানা সাত বছর একসঙ্গে অনেকগুলো কাজ করেছি আমরা। বেশ কয়েকটি ধারাবাহিক ও ১৫-২০টি একক নাটক করেছি। এসব নাটক তখন বেশ দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছিল। জয়া আহসানও দর্শকদের প্রচুর ভালোবাসা কুড়িয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘যশোরে একটি নাটকের শুটিং করছিলাম। আরেকজন শিল্পীর অভিনয় করার কথা ছিল, কিন্তু প্রচণ্ড কুয়াশার কারণে সেদিন তিনি ফ্লাইট মিস করেন। কী করি তখন! বেশ বিপদে পড়ে যাই। জয়াকে তখন ফোন করি। সে সময় মোবাইল নেটওয়ার্ক এত সহজ ছিল না। অনেক দূরে গিয়ে তাকে ফোন করি, সব খুলে বলি। তিনি রাজি হন। একটা গাড়ি ও একজন সহকারী ঠিক করে দিই এবং রাতের মধ্যেই জয়া যশোরে পৌঁছান। এরপর আমরা শুটিং করি। এই ঘটনা কখনোই ভুলব না।’

জয়া কতটা ডেডিকেশন নিয়ে অভিনয় করেন? জবাবে গিয়াস উদ্দিন সেলিম বলেন, ‘জয়া আহসান প্রচণ্ড ডেডিকেটেড একজন শিল্পী। ওর মধ্যে এটা আছে, আর এ জন্যই ধীরে ধীরে এতটা উন্নতি করেছে। কাজের প্রতি প্রবল ভালোবাসা ও অসম্ভব দায়িত্বশীলতার কারণেই সে এত সুনাম অর্জন করেছে, এখনো ক্যারিয়ার ধরে রেখেছে।’

‘জয়া আহসানের ডেডিকেশনের তুলনা হয় না। ওর আত্মাটা বেশ বড়। সব সময় বলি জয়ার একটা “গুড সোল” আছে’ যোগ করেন গিয়াস উদ্দিন সেলিম।

তিনি আরও বলেন, ‘একজন অভিনয়শিল্পীর বড় মন থাকলে আর কিছু লাগে না, ওটাই তাকে বহুদূর নিয়ে যায়, ওটাই তার মূল শক্তি। এ জন্যই বলি, জয়ার অভিনয়ের যে শিক্ষা, অভিনয়ের যে মেধা তা সে নিজে অর্জন করেছে। অভিনয়কে ভালোবেসেছে বলেই সে এত দূর আসতে পেরেছে।’

দুই দেশে জয়া আহসান অভিনয় করছেন, সুনাম অর্জন করেছেন—এটাকে কীভাবে দেখেন? গিয়াস উদ্দিন সেলিম বলেন, ‘জয়ার বর্তমান ক্যারিয়ারের অবস্থান আমার বেশ ভালো লাগে। আমি এটিকে ইতিবাচকভাবেই দেখি। শিল্পচর্চা, সাধনা ও কাজের প্রতি দায়বদ্ধতাই তাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে।’

গিয়াস উদ্দিন সেলিম বলেন, ‘অনেক বছর আগে “তেভাগা” নামের একটি ধারাবাহিক পরিচালনা করেছিলাম। ওই নাটকে জয়া মতিবানু চরিত্রে অভিনয় করে দারুণ নাম করেছিল। “সংশয়” এবং “এনেছি সূর্যের হাসি” নামের দুটি ধারাবাহিকেও সে দুর্দান্ত অভিনয় করেছিল।’

একক নাটকের বিষয়ে গিয়াস উদ্দিন সেলিম বলেন, ‘জয়াকে নিয়ে “ইন্টারভিউ” নামে একটি একক নাটক করেছিলাম। এটা দিয়ে জয়া খুব আলোচিত হয়। এ ছাড়া “স্বপ্নসিঁড়ি” নামে একটি একক নাটক করেছিলাম, যেটিতে জয়া, মাহফুজ আহমেদ ও তিন্নি অভিনয় করেছিল। এটি ব্যাপক আলোচিত একটি নাটক ছিল। এভাবেই জয়া তার অবস্থান শক্ত করেছে।’

ব্যক্তি জয়া কেমন? এর জবাবে গিয়াস উদ্দিন সেলিম বলেন, ‘ব্যক্তি জয়া আহসান খুব বন্ধুবৎসল। প্রাণীদের প্রতি ওর ভালোবাসা আমাকে মুগ্ধ করে। জয়া সব সময় ইতিবাচক একজন মানুষ। পজিটিভ ভাবনা ছাড়া ওর কোনো ভাবনা নেই। এই গুণটি কিন্তু দারুণ।’

Related Articles

Latest Posts