২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ন্যায্যতা দিতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক।
আজ রোববার সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে’ এ কথা বলেন তিনি।
সারাহ কুক বলেন, ‘আমরা ৭ অক্টোবর হামাসের সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানাই এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রতি সমর্থন জানাই। কিন্তু এর মাধ্যমে গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ন্যায্যতা দেওয়া যায় না। সেখানে অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে মিলে আমরা দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের জন্য সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছি। এর মধ্যে অবৈধ বসতি স্থাপনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘে নতুন করে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ও রয়েছে।’
মধ্যপ্রাচ্যে নীতিগত অবস্থানের পাশাপাশি বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন হাইকমিশনার।
তিনি বলেন, ‘বৃহত্তর অঞ্চলে উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাজ্য তার অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে।’
হাইকমিশনার বলেন, ‘উপসাগরীয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক উত্তেজনা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে নৌ চলাচলের গুরুত্বকে সামনে নিয়ে এসেছে।’
বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আজ আমাদের সম্পর্ক একটি আধুনিক, কৌশলগত অংশীদারত্বে পরিণত হয়েছে, যা বিশ্বে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার প্রতিফলন। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের লক্ষ্য হলো এ উত্তরণকে নির্বিঘ্ন ও টেকসই করতে সহায়তা করা।’
উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বাণিজ্য কর্মসূচি ‘ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ট্রেডিং স্কিমের’ আওতায় বাংলাদেশের ৯৯ দশমিক ৮ শতাংশ পণ্য যুক্তরাজ্যের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন সারাহ কুক।
এলডিসি থেকে উত্তরণের পর তিন বছরের অন্তর্বর্তীকালীন সময়েও এ সুবিধা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন তিন বছরে ৯২ শতাংশ পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। এরমধ্যে তৈরি পোশাকও অন্তর্ভূক্ত রয়েছে।’
রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও কথা বলেন হাইকমিশনার।
তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হলো পরিস্থিতি অনুকূলে এলে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন করা।’
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদসহ আন্তর্জাতিক মহলে এ বিষয়ে যুক্তরাজ্য চাপ অব্যাহত রেখেছে বলেও জানান সারাহ কুক।
বক্তব্যে অবাধ ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ওপরও গুরুত্ব দেন হাইকমিশনার।
তিনি বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের দায়িত্ব রয়েছে। কৌশলগত দিক থেকে এ অঞ্চলের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে।’
এছাড়া জলবায়ু অর্থায়ন বাড়ানোসহব উচ্চ মানসম্পন্ন কার্বন বাজার গড়ে তুলতে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্য কাজ করছে বলেও জানান সারাহ কুক।

