৩ গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের আগে বিরোধী দলের ওয়াকআউট

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত আইনসহ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল সংসদে উত্থাপনের ঠিক আগে ওয়াকআউট করেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা।

আজ বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৫ মিনিটের দিকে তারা ওয়াকআউট করেন।

মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধ ছাড়া অপর প্রস্তাবটি ছিল হস্তান্তর সম্পত্তি (সংশোধন) বিল, ২০২৬।

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ফ্লোর নিয়ে কার্যসূচিতে বিল অন্তর্ভুক্ত করার তীব্র বিরোধিতা করেন। নিয়মানুযায়ী বৃহস্পতিবার শুধু বেসরকারি সদস্যদের (প্রাইভেট মেম্বার) কার্যাবলীর জন্য নির্ধারিত থাকে।

প্রশ্ন তুলে শফিকুর রহমান বলেন, ‘প্রাইভেট মেম্বার ডে-তে মন্ত্রীর বিল উত্থাপন করা যায় কি না, সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই। তাছাড়া একাধিক বেসরকারি বিল এখনো বিচারাধীন রয়েছে। এখানে মন্ত্রীদের বিল এনে সংসদ সদস্যদের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে না?’

‘এটি ভালো দৃষ্টান্ত নয়। বেসরকারি সদস্যদের দিনটি শুধু তাদেরই প্রাপ্য। আমরা এই আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে ইচ্ছুক নই,’ যোগ করেন তিনি।

বিরোধীদলীয় নেতা গণভোটের রায় অনুযায়ী ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন না করায় সরকারের সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, ‘সংসদকে ঠেলে একপেশে করে ফেলা হচ্ছে। আমরা নীতিগতভাবে এই ধরনের বিলে অংশগ্রহণ করতে চাচ্ছি না। আমরা আশঙ্কা করছি এর মাধ্যমে সংস্কারের মূল দাবি সেটাকে চাপা দেওয়া হচ্ছে। আমরা এর পক্ষে নাই।’

‘এখন আপনারা যা উত্থাপনের দিকে যাচ্ছেন…আমরা এভাবে খণ্ডিত সংস্কারের অংশ হতে চাই না, আমরা ওয়াকআউট করছি,’ বলেন তিনি।

এরপর বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অধিবেশন কক্ষ থেকে বের হয়ে যান।

তখন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘ওয়াকআউট করার স্বাধীনতা আপনার আছে। কিন্তু সংসদের ভেতরে সবকিছু আলোচনা করা দরকার। না হলে জাতি কী পাবে? আমি অনুরোধ করব আপনারা বসেন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। পক্ষ-বিপক্ষ বিতর্ক থাকবে। বিতর্কের মধ্যে দিয়েই তো জাতি পরিচালিত হবে।’

এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমাদের উচিত সংসদকে প্রাণবন্ত রাখা এবং তুচ্ছ বিষয়ে ওয়াকআউট না করা।’

তিনি বলেন, সরকারি ও বিরোধী দলের তর্ক-বিতর্ক সংসদ কক্ষের ভেতরেই হওয়া উচিত এবং সব সিদ্ধান্তের মীমাংসাও এখানেই করা প্রয়োজন।

Related Articles

Latest Posts