২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ফিরে এসে নিজেদের উপস্থিতিটা বেশ ভালোভাবেই জানান দিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ টাইগারদের হাতে, অস্ট্রেলিয়া লড়ছে ইনিংস হার এড়াতে। এমন পারফরম্যান্সের পর তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, এবার কি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিয়মিত টেস্ট খেলার সুযোগ মিলবে বাংলাদেশের? মেহেদী হাসান মিরাজের বিশ্বাস, ভালো ক্রিকেট খেলতে থাকলে অস্ট্রেলিয়ার দরজা বাংলাদেশের জন্য আরও খুলবে।
ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৬১ রান। ইনিংস হার এড়াতে এখনো তাদের প্রয়োজন ৬৭ রান। অর্থাৎ বাংলাদেশের হাতে রয়েছে ঐতিহাসিক এক জয়ের সুযোগ। তিন দিনেই যে পারফরম্যান্স করেছে বাংলাদেশ, তাতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই টেস্টের ফল এখন আর কেবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং ইতিহাসের হাতছানি দেখছে সফরকারীরা।
এই টেস্টে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে ২৩ বছরের অপেক্ষার কথা বিবেচনায় নিলে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সর্বশেষ টেস্ট খেলেছিল বাংলাদেশ ২০০৩ সালে। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও দেশটিতে আর টেস্ট খেলার সুযোগ হয়নি। ২০২৬ সালে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ফিরেই বাংলাদেশ দেখাচ্ছে, এমন সুযোগ আরও বেশি পাওয়ার যোগ্য তারা।
দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে মিরাজের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, এমন পারফরম্যান্সের পর ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশকে আরও বেশি টেস্ট খেলার আমন্ত্রণ জানাবে কি না। মিরাজের উত্তরেও ছিল আশাবাদ, ‘আমরা যদি ভালো ক্রিকেট খেলতে থাকি, এরকম অবশ্যই তারা আমাদেরকে ইনভাইট করবে। আমার কাছে মনে হয়, আমাদের সামনে যে খেলাগুলো আছে, সেটা নিয়ে ফোকাস করা উচিত। ভবিষ্যতে কী হবে, সেটা তো আমরা বলতে পারি না। তবে আশা করি, তারা ভালো ফিডব্যাক দেবেন।’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই টেস্টে বাংলাদেশ যে শুধু লড়াই করছে তা নয়, বরং বেশির ভাগ সময়ই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছে। প্রথম দিন অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে অলআউট করার পর বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ইনিংসে করেছে ৪২৬ রান। তানজিদ হাসানের সেঞ্চুরি, নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪, মিরাজের ৬৫ রান সহ ব্যাটারদের সম্মিলিত পারফরম্যান্সে প্রথম ইনিংসে ২২৮ রানের বিশাল লিড পায় বাংলাদেশ। তৃতীয় দিন শেষে সেই লিডই অস্ট্রেলিয়াকে কঠিন অবস্থায় ফেলেছে।
এরপর অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসেও শুরু থেকেই চাপ ধরে রেখেছে বাংলাদেশের বোলাররা। হাসান মাহমুদ দ্বিতীয় ওভারেই জ্যাক ওয়েদারল্ডকে ফিরিয়ে দেন। পরে ট্রাভিস হেডকেও ফেরান এই পেসার। তাইজুল ইসলামের বলে বিদায় নেন মার্নাস লাবুশেন। আর দিনের শেষ ঘণ্টায় মিরাজের বলে স্টিভেন স্মিথের বিদায়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপদ আরও বাড়ে। স্মিথ ৮৮ বলে ৪৪ রান করে ফেরেন।
এই পারফরম্যান্সের মধ্যেই মিরাজ দেখছেন ভবিষ্যতের সম্ভাবনা। তবে তিনি জানেন, একটি ভালো টেস্ট ম্যাচই সবকিছুর নিশ্চয়তা দেয় না। নিয়মিত অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পেতে হলে ধারাবাহিকভাবে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হবে। তাই ভবিষ্যতের আমন্ত্রণের কথা ভেবে বসে না থেকে সামনে থাকা ম্যাচেই মনোযোগ দিতে বলছেন তিনি ‘আমাদের সামনে যে খেলাগুলো আছে, সেটা নিয়ে ফোকাস করা উচিত।’
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ভালো করার গুরুত্বটাও বুঝতে পারছেন বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার। বিশেষ করে এমন একটি দলের বিপক্ষে, যাদের তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা দল হিসেবে দেখছেন। তার ওপর অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ও কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের সামনে এমন পারফরম্যান্স বাংলাদেশের জন্য বাড়তি আত্মবিশ্বাসেরও কারণ।
‘আপনারা জানেন, এখানে সব লিজেন্ডারি প্লেয়াররা আছে এবং সবাই খেলা দেখছে। আমরা যে টিমের সঙ্গে খেলছি, আমরা সবাই জানি এটা ওয়ান অব দ্য বেস্ট টিম। তারা তাদের সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে খেলছে। আমার কাছে ভালো লাগছে যে বাংলাদেশ এরকম একটা মোমেন্টাম পেয়েছে,’ বলেন মিরাজ।
তবে মিরাজের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এই ভালো সময়টা যেন এখানেই থেমে না যায়। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ইতিহাসের খুব কাছে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। চতুর্থ দিনে সেই কাজ শেষ করতে পারলে শুধু একটি জয়ই আসবে না, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের গল্পেও নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে।

