পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনায় এখন পর্যন্ত পাওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে।
ভারতের নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২৯৩টি আসনের মধ্যে বিজেপি এখন পর্যন্ত ১৯৫টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস এগিয়ে আছে ৯২টি আসনে।
পাশাপাশি, ২ আসনে আম জনতা উন্নয়ন পার্টি, ২ আসনে অল ইন্ডিয়া সেকিউলার পার্টি,১ আসনে কংগ্রেস ও ১ আসনে কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্ক্সবাদি) এগিয়ে।
আনন্দবাজার পত্রিকার তথ্য অনুযায়ী বিজেপি ১৭৯টি এবং তৃণমূল কংগ্রেস ১০৭টি আসনে এগিয়ে রয়েছে।
ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিজেপি ১৭৩ ও তৃণমূল কংগ্রেস ৮৫ আসনে এগিয়ে।
সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ন্যূনতম ১৪৮টি আসন।
তবে এখন পর্যন্ত কোনো আসনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা হয়নি। গণনা চলছে।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি দীর্ঘদিনের নেতা ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমতাচ্যুত করতে বড় ধরনের প্রচারণায় নামে। ২০১১ সাল থেকে রাজ্যের ক্ষমতায় আছেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা মমতা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিশ্বনাথ চক্রবর্তী এএফপিকে বলেন, ‘গোটা দেশ পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ফলাফলের দিকে নজর রাখছে। এই প্রতিযোগিতা ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিতে পারে।’
নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংস্কারের উদ্যোগ নেয় নির্বাচন কমিশন। এতে লাখো মানুষ ভোট দেওয়ার যোগ্যতা হারান। সমালোচকদের ভাষ্য, এতে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ বেশি প্রভাবিত হয়েছেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার দলের প্রার্থী, এজেন্ট, নেতা–কর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘ওয়েট অ্যান্ড সি, ওয়াচ। আমরা সবাই আপনাদের সাথে আছি। আপনারা কেউ ভয় পাবেন না। নিশ্চিন্তে থাকুন, আমরা বাঘের বাচ্চার মতো লড়াই করে যাব।’
আজ সোমবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টার দিকে মমতা এক ‘জরুরি বার্তায়’ এসব কথা বলেন। ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি ভিডিওটি পোস্ট করেন।
এর আগে ভোট গণনার আগে মমতা দাবি করেন, তার দল জিতবে। ‘বিজেপি আসছে না’, দাবি করেন তিনি।
তবে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি প্রধান শমীক ভট্টাচার্য জেতার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী।
সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দপ্তর থেকে শমীক জানান, তিনি পশ্চিমবঙ্গের ভোট-সংস্কৃতির পরিবর্তন চান। অতীতে যেমন ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ উঠে এসেছিল, তার পুনরাবৃত্তি চাইছেন না তিনি। দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে সেই বার্তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন শমীক।

