১৫০ কিমি দূর থেকে উড়ে আসছে আগ্নেয়গিরির ছাই, ইন্দোনেশিয়ার প্রধান বিমানবন্দর বন্ধ

ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার বাইরে অবস্থিত প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম আজ রোববার সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ১৫০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে অবস্থিত আনাক ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরি থেকে ছড়িয়ে পড়া ছাই উড়োজাহাজ চলাচলের পথে ছড়িয়ে পড়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

দেশটির ভূতাত্ত্বিক সংস্থা জানিয়েছে, শনিবার মাউন্ট আনাক ক্রাকাতোয়ায় অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়। এসময় লাভার প্রবল উদগীরণ এবং বিকট শব্দ শোনা যায়, যা আগ্নেয়গিরি থেকে প্রায় ৭০০ কিলোমিটার (৪৩৫ মাইল) দূর থেকেও শোনা গেছে।

এএফপি জানিয়েছে, আজ আরও দুটি অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে বলে সতর্ক করেছে আগ্নেয়গিরিবিষয়ক সংস্থা।

আগ্নেয়গিরি থেকে ছড়িয়ে পড়া ছাইয়ের উপস্থিতি সোকার্নো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আকাশসীমায় শনাক্ত হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ রোববার স্থানীয় সময় রাত ১টা ৩০ মিনিট থেকে বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।

পরিবহন মন্ত্রণালয় রোববার এক বিবৃতিতে জানায়, সর্বশেষ পরীক্ষায় বিমানবন্দর এলাকায় আগ্নেয়গিরির ছাই ছড়িয়ে পড়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ কারণে বিমানবন্দর বন্ধ রাখার সময় বাড়িয়ে রোববার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত করা হয়।

মন্ত্রণালয় জানায়, বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ২২ হাজারের বেশি যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বাতিল বা প্রভাবিত হয়েছে ২০৯টি ফ্লাইট। এর মধ্যে সিঙ্গাপুরগামী ও সিঙ্গাপুর থেকে আসা ফ্লাইট বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ ছাড়া দোহা, সিডনি ও কুয়ালালামপুরের আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইটও এর প্রভাবে পড়েছে।

‘আনাক ক্রাকাতোয়া’ শব্দের অর্থ ক্রাকাতোয়ার সন্তান। জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের মধ্যবর্তী প্রণালিতে এর অবস্থান।

গত শতকের শুরুর দিকে সমুদ্র থেকে জেগে ওঠার পর থেকেই আনাক ক্রাকাতোয়া মাঝেমধ্যে সক্রিয় হয়ে উঠছে। ১৮৮৩ সালে মাউন্ট ক্রাকাতোয়ার ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতের পর তৈরি হওয়া আগ্নেয়গিরির গহ্বরেই এটি গড়ে ওঠে।

১৮৮৩ সালের ওই অগ্ন্যুৎপাত ইতিহাসের অন্যতম প্রাণঘাতী ও ধ্বংসাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বিবেচিত। এতে আনুমানিক ৩৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বীপদেশ ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত। মহাদেশীয় ভূখণ্ডের টেকটোনিক প্লেটগুলোর সংঘর্ষের কারণে এ অঞ্চলে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্পের প্রবণতা বেশি।

Related Articles

Latest Posts