ব্যাটাররা এনে দিয়েছিলেন ২৪৯ রানের পুঁজি। এত বড় পুঁজিও সামলাতে পারেননি ভারতের বোলাররা। শাই হোপের টর্নেডো সেঞ্চুরিতে অনেকটা যেন উড়ে যান তারা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ জিতে যায় ৯ বল আগে। বোলারদের এমন দুর্দশার দিনেও তাদের সমর্থন দিলেন ভারতের কোচ গৌতম গম্ভীর।
শুক্রবার রাঁচিতে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ভারতের দেওয়া বিশাল লক্ষ্যও অনায়াসে ডিঙিয়ে যায় সফরকারীরা। অতিরিক্ত শিশিরের কারণে বল ভিজে সাবানের মতো পিচ্ছিল হয়ে পড়েছিল, যার মাশুল গুনতে হয় ভারতীয় বোলারদের। ক্যারিবীয় অধিনায়ক হোপ সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে মাত্র ৪৫ বলে ১০২ রানের হার-না-মানা তোপ দাগেন। ফলে ৬ উইকেট ও ৯ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
এমন ম্যাচের পর ব্যাট ও বলের সমান লড়াই নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে গম্ভীর বলেছেন, ‘বোলারদের ক্যারিয়ারও তো ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।’
রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছিল সফরকারীরা। ময়ঙ্ক যাদবের গতির তোড়ে প্রথম ওভারেই সাজঘরে ফেরেন কামিল পুরান ও শিমরন হেটমায়ের। এরপর রভম্যান পাওয়েলকে সঙ্গে নিয়ে ৫৩ রানের জুটি গড়েন হোপ। তবে ম্যাচের মোড় ঘোরে হোপ ও শেরফেন রাদারফোর্ডের চতুর্থ উইকেটের ১২০ রানের জুটিতে, যা ক্যারিবীয়দের আসকিং রানরেটের সঙ্গেই রাখে। শেষদিকে রোমারিও শেফার্ডকে (৩৪*) সঙ্গে নিয়ে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন হোপ। এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা ফেরাল ক্যারিবীয়রা।
এর আগে গত মাসে গুয়াহাটিতে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ৪০৬ রান তাড়া করে জিতেছিল ভারত। সেবারও পিচের অতিরিক্ত ব্যাটিং-বান্ধব আচরণ নিয়ে তোপ দেগেছিলেন গম্ভীর। সাফ জানিয়েছিলেন, ‘এটা ক্রিকেট ছিল না, শুধু ব্যাটিং অনুশীলন হয়েছে।’
শুক্রবার ম্যাচ শেষে দলের কোচের কাছে জানতে চাওয়া হয়—ব্যাটিং ও বোলিংয়ের মধ্যে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই তারা দেখতে চান কি না। জবাবে গম্ভীর বলেন,
সংবাদ সম্মেলনে গম্ভীর আরও যোগ করেন, ‘ওরা তো আর বাইরের কোনো বোলার নয়; ওদের ক্যারিয়ারও তো এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে। এই ড্রেসিংরুমে জায়গা করে নিতে ওরাও কঠোর পরিশ্রম করেছে। আকাশ থেকে তো আর পড়ে যায়নি! তাই লড়াইটা সমানে-সমানে হলে খেলা দেখতে আরও সুন্দর লাগবে।’
টসের অজুহাত তুলে পার পাওয়ার চেষ্টা করেননি গম্ভীর। শিশির পড়া আর ফ্ল্যাট উইকেটের কঠিন পরিস্থিতিতে কীভাবে বোলিং সামলাতে হয়, তা খুঁজে বের করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। ম্যাচে টস জিতে আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সানজু স্যামসন (৮২), ঈশান কিষাণ (৪৩), শ্রেয়াস আইয়ার (৪০) ও তিলক বর্মার (৪৪*) ব্যাটে ভর করে ভারত ৫ উইকেটে ২৪৯ রানের পাহাড় গড়েছিল।
গম্ভীর বলেন, ‘আমরা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল, তাই আমাদের প্রতিনিয়ত উন্নতি করে যেতে হবে। ফ্ল্যাট পিচ আর অতিরিক্ত শিশিরে বোলিং করা সত্যিই কঠিন, মানছি। কিন্তু প্রথম ওভারে ২ উইকেট আর পাওয়ারপ্লে-র মধ্যে ৩ উইকেট ফেলার পর প্রতিপক্ষকে কীভাবে আটকে রাখতে হয়, সেই পথ আমাদের খুঁজে বার করতে হবে।’
ক্যারিবীয় অধিনায়কের প্রশংসায় গম্ভীর আরও বলেন, ‘পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে কঠিন ছিল। তবে সব কৃতিত্ব ওয়েস্ট ইন্ডিজের, বিশেষ করে হোপ যেভাবে ব্যাট করেছে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ওরা যে বিশ্বের অন্যতম সেরাদের কাতারে, তা আমাদের জানা। সত্যি বলতে, ২৫০ রান করেও ম্যাচটা আমরা বাঁচাতে পারিনি। ওরা অসাধারণ খেলেছে এবং জয়ের দাবিদার ছিল। এই ছোট ছোট জায়গায় আমাদের আরও অনেক কাজ করার আছে। বিশেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো বিপজ্জনক দলের বিরুদ্ধে টস হেরে গেলে কীভাবে ডিফেন্ড করতে হয়, তা আমাদের দ্রুত শিখে নিতে হবে।’

