বর্তমান ক্রিকেটে শ্রেয়াস আইয়ার এখন এক অনিবার্য নাম। আইপিএলের আঙিনায় তার ব্যাটের ধার আর অধিনায়কত্বের মুন্সিয়ানা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে—তবে কি ভারতের টি-টোয়েন্টি নেতৃত্বের ব্যাটন এবার তার হাতেই উঠতে যাচ্ছে?
এই প্রশ্নটি এখন কেবল সমর্থকদের নয়, বরং ক্রিকেটবোদ্ধাদেরও ভাবিয়ে তুলছে। আইয়ারের এই উত্থান হঠাৎ করে আসা কোনো সাফল্য নয়, বরং গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজিকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার এক ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।
২০২০ সালে দিল্লি ক্যাপিটালসকে প্রথমবারের মতো ফাইনালে তোলা থেকে শুরু করে ২০২৪ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে দীর্ঘ এক যুগ পর শিরোপা এনে দেওয়া—অধিনায়ক আইয়ার বারবার নিজেকে প্রমাণ করেছেন। এমনকি ২০২৫ মৌসুমে পাঞ্জাব কিংসের দায়িত্ব নিয়েও তিনি দেখিয়েছেন ক্যারিশমা, যেখানে ১৭৫-এর বেশি স্ট্রাইক রেটে ৬০৪ রান করে তিনি এক বিধ্বংসী রূপে ধরা দিয়েছিলেন। নেতৃত্বের চাপে অনেক সময় বড় ব্যাটাররাও খেই হারিয়ে ফেলেন, কিন্তু আইয়ার সেখানে ব্যতিক্রম। জাসপ্রিত বুমরাহর মতো বোলারকে অবলীলায় ছক্কা হাঁকানো কিংবা কোয়ালিফায়ারের মতো কঠিন ম্যাচে একক হাতে জয় ছিনিয়ে আনা তাকে অনন্য উচ্চতায় বসিয়েছে। তবে এত কিছু করেও গত বিশ্বকাপ দলে ঠাঁই হয়নি তার।
ভারতের বর্তমান টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের সাফল্য পরিসংখ্যানের বিচারে দারুণ হলেও কিছু খটকা রয়ে যাচ্ছে। তার অধীনে ভারত ২০২৬ বিশ্বকাপ ও ২০২৫ এশিয়া কাপ জিতেছে ঠিকই, কিন্তু বড় টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বগুলোতে তার ব্যক্তিগত ব্যাটিং ফর্ম চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরা এবং টুর্নামেন্টে মন্থর স্ট্রাইক রেট কিছুটা হলেও প্রশ্ন তুলেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বয়সের সমীকরণ; ২০২৮ সালের অলিম্পিক ও বিশ্বকাপের সময় সূর্যকুমারের বয়স হবে ৩৮। এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় শ্রেয়াস আইয়ার অনেক বেশি টেকসই বিকল্প হতে পারেন।
আইয়ারের এই সামর্থ্যের প্রশংসা ঝরছে কিংবদন্তিদের কণ্ঠেও। অনিল কুম্বলে তাকে একজন ‘আন্ডাররেটেড’ অধিনায়ক মনে করেন, যিনি ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশে দলকে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারেন। রিকি পন্টিংয়ের মতে, আইয়ার এখন মানসিকভাবে অনেক বেশি পরিপক্ক। এমনকি রবিচন্দ্রন অশ্বিনও মুগ্ধ আইয়ারের দল পরিচালনার ধরনে। অশ্বিন মনে করেন, ড্রেসিংরুমে যে বন্ধুত্বের পরিবেশ আইয়ার তৈরি করেন, সেটিই দলের সাফল্যের চাবিকাঠি। রাজত পাতিদার বা সঞ্জু স্যামসনের মতো প্রতিভাবানরা লাইনে থাকলেও, অভিজ্ঞতা আর নেতৃত্বের প্রজ্ঞায় আইয়ার এখন সবার চেয়ে কয়েক ধাপ এগিয়ে। তাই আগামী বিশ্বকাপের চক্রে ভারতের টি-টোয়েন্টি নেতৃত্বে বড় রদবদল আসলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

