সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তের এখতিয়ার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) রয়েছে কি না, তা পর্যালোচনা করবে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।
আজ রোববার একটি লিখিত আবেদন পাওয়ার পর এ কথা জানিয়েছেন আইসিটির চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
রুনির ভাই রোমান এই দম্পতির ছেলে মেঘকে সঙ্গে নিয়ে ট্রাইব্যুনালে গিয়ে আবেদনটি জমা দেন। আবেদনে মামলাটি তদন্ত করার অথবা ট্রাইব্যুনালের কাছে কোনো তথ্য থাকলে তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর সাংবাদিকদের বলেন, ‘তারা লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন, আমাদের সংস্থা যেন মামলাটি তদন্ত করে অথবা আমাদের কাছে থাকা তথ্য যেন পিবিআইয়ের সঙ্গে শেয়ার করা হয়।’
তিনি বলেন, আপাতদৃষ্টিতে সাগর-রুনি হত্যা একটি একক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বলে মনে হচ্ছে। তবে এটি ব্যাপক বা পদ্ধতিগত অপরাধের আওতায় পড়ে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
‘যদি এটি আমাদের এখতিয়ারের মধ্যে না-ও পড়ে, তাহলেও আমরা তাদের তা জানিয়ে দেবো,’ বলেন চিফ প্রসিকিউটর।
সাগর-রুনি হত্যা মামলার সম্ভাব্য কোনো সূত্র পাওয়া গেছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর জানান, অন্য একটি মামলার তদন্তের সময় ট্রাইব্যুনালের তদন্তকারীরা দুজন ব্যক্তির মধ্যে একটি সম্ভাব্য যোগসূত্র পেয়েছেন। তাদের একজন সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তি এবং অন্যজন সামরিক কর্মকর্তা, যিনি বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।
আমিনুল ইসলাম বলেন, এর আগে প্রসিকিউশন জানিয়েছিল, তদন্তে ওই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সামরিক কর্মকর্তার মধ্যে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। ওই সামরিক কর্মকর্তার এক সহযোগীর মাধ্যমে একটি ডিস্ক হস্তান্তরের বিষয়ও তদন্তে উঠে এসেছে।
তবে চলমান বিচারিক কার্যক্রমের কারণে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে বা গণমাধ্যমে আলোচিত ব্যক্তিদের নাম নিশ্চিত করতে রাজি হননি চিফ প্রসিকিউটর।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সাগর-রুনি হত্যা মামলার মূল ও স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থা হিসেবে পিবিআই দায়িত্ব পালন করছে।
ট্রাইব্যুনালের নিজস্ব তদন্তে এ মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো তথ্য, সূত্র বা প্রমাণ পাওয়া গেলে তা পিবিআইয়ের তদন্তে সহায়তার জন্য দেওয়া হবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসা থেকে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটির তদন্ত চললেও হত্যাকাণ্ডের রহস্য এখনো উদঘাটিত হয়নি।

