ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র বিতরণের প্রথম দিনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে মোট ৫২ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তারা সবাই বিএনপির সমর্থন প্রত্যাশী। এই নির্বাচন আগামী ১২ মে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসি সচিবালয়ে নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসেনের কাছ থেকে ৫২ নারী তাদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
সংরক্ষিত নারী আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সাবেক নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের বড় মেয়ে আইরীন মাহবুবও গতকাল মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হলেও সিল মারা ব্যালট, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতার মতো নানা অভিযোগে তা বিতর্কিত হয়। তৎকালীন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের দায়িত্বকালে ৩০ ডিসেম্বরের সেই নির্বাচনটি ‘রাতের ভোট’ হিসেবে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিল।
মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা বাকি ৫১ জন হলেন- মনিরা বানু, শাহেনেওয়াজ চৌধুরী, ফরিদা আক্তার, মমতাজ আক্তার, ফারজানা রশিদ লাবনী, নিলুফা ইয়াসমিন খান, সায়েমা খাতুন, তাহমিনা বেগম রিপা, রোকেয়া চৌধুরী বেবী, শাকিলা ফরহাদ বানু, কাজী নাজিয়া হক, জিনাত আরা আফু, কাজী মরিয়ম বেগম, হাফেজা ফেরদৌস লিমন, তাহমিনা খান, রুবিনা আক্তার রুবা, শামিমা রহিম, মুনমুন তালুকদার, তহমীনা আক্তার হাসেমী, তাহসিন শারমিন তামান্না, রেহেনা পারভীন, ফৌজিয়া সাফদার সোহেলী, খালেদা ইয়াসমিন, আফসানা মিমি, সানসিলা জেবরিন, সানজানা চৈতী পপি, শাহানা সুলতানা, সেলিনা আফরোজ, নাছিমা তালুকদার, নাসিমা আক্তার, কাওসার জাহান ফরিদা, রায়হান রহমান হেলেন, লাভলী, জেসমিনা খানম, ফরিদা ইয়াসমিন (ডোরা), মমতাজ বেগম (নয়ন), বেগম রাজিয়া আলম, সেলিনা পারভীন, হাবিবা আক্তার পাপিয়া, আয়েশা আক্তার সানজি, সায়মা আহমেদ, শাহীনূর বেগম (সাগর), মাহমুদা আক্তার, নাছিমা ইসলাম চৌধুরী দৃষ্টি, জিন্নাতুন নেছা জিনু, সামিরা আজিম, সুলতানা বেগম (আঁখি সুলতানা), খাদিজা বেগম, মাহমুদা সুলতানা, মাহমুদা সুলতানা চৌধুরী (ঝর্ণা) ও নিলুফার চৌধুরী মনি।
ইসি গত বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। তফসিলে ৫০টি সংরক্ষিত আসনের এই নির্বাচনে ভোটগ্রহণের তারিখ ১২ মে নির্ধারণ করা হয়।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল, যা ইসি সচিবালয়ে জমা দিতে হবে। ২২ ও ২৩ এপ্রিল মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। আপিল দায়ের করা যাবে ২৬ এপ্রিল এবং আপিল শুনানি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ এপ্রিল। ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, আসন বন্টনের ক্ষেত্রে বিএনপি ও তার জোট ৩৬টি আসন পাবে। এই জোটে রয়েছে গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)। জামায়াতে ইসলামী এবং তার শরিকরা অর্থাৎ জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও খেলাফত মজলিস পাবে ১৩টি আসন। অন্যদিকে, ছয়জন স্বতন্ত্র প্রার্থী একটি জোট গঠন করেছেন এবং তাদের একটি আসন বরাদ্দ দেওয়া হবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (আইএবি) কোনো জোটের সঙ্গে হাত মেলাবে না। স্বতন্ত্র রুমিন ফারহানাও জানিয়েছেন, তিনি কোনো জোটে যাচ্ছেন না।
এর আগে, গত সোমবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন সংরক্ষিত নারী আসন নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে ভোট দেওয়ার যোগ্য ২৯৬ সংসদ সদস্যের নাম রয়েছে।

