সংরক্ষিত নারী আসন: ইসি থেকে ৩৭৫ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ, জমা ২টি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে অংশ নিতে গত ৯ দিনে বিএনপিসহ তিনটি রাজনৈতিক দলের মোট ৩৭৫ জন নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।

জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ৫০টি।

ইসি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে ৩৬১ জন বিএনপি, ১৩ জন জামায়াতে ইসলামী এবং একজন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত মাত্র দুজন তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

রিটার্নিং অফিসার ও ইসি যুগ্ম সচিব মঈন উদ্দিন খান গতকাল বৃহস্পতিবার জানান, আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত মাত্র দুটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে।

ইসি গত ৮ এপ্রিল সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ মে ভোটগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে। ইসি সচিবালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল।

আপিল দাখিল করা যাবে ২৬ এপ্রিল এবং আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ এপ্রিল এবং ৩০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিএনপি ও তার জোট ৩৬টি আসন পাবে। এই জোটে রয়েছে গণসংহতি আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)।

জামায়াতে ইসলামী ও তার শরিক দলগুলো— জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং খেলাফত মজলিস—পাবে ১৩টি আসন।

ছয়জন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য একটি জোট গঠন করেছেন এবং তারা একটি আসন পাবেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (আইএবি) কোনো জোটে নেই। পাশাপাশি স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাও জোটে যোগ না দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

ইসি গত ৬ এপ্রিল সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রকাশ করে। তালিকা অনুযায়ী, ২৯৮ জন সংসদ সদ্য ভোট দিতে পারবেন।

জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত নারী আসন) নির্বাচন আইন, ২০০৪ অনুযায়ী, সাধারণ আসন নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে ইসিকে এই নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দিন গেজেট প্রকাশ পায়। ওই নির্বাচনে ৫০টি দল অংশ নিলেও মাত্র ৯টি দল আসন পায়। জাতীয় পার্টিসহ ৪১টি দল কোনো আসন পায়নি।

আইন অনুযায়ী, ৩০০টি সাধারণ আসনের ফলাফলের ভিত্তিতে আনুপাতিক হারে সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসন বণ্টন করা হয়। প্রতিটি দল বা জোট কতটি আসন পাবে, তা তাদের জেতা সাধারণ আসনের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়।

Related Articles

Latest Posts