মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা করার দাবিতে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনায় করা মামলায় এক চা শ্রমিক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গতকাল গীতা রানী কানু নামের ওই নেতাকে মৌলভীবাজার আদালত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন।
এর আগে গীতা রানীসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা সাত-আটজন চা শ্রমিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল।
মামলার এজাহারে নিপেন পাল অভিযোগ করেন, আসামিরা দলবদ্ধভাবে চা শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে তাকে মারধর করেন। এসময় তার কাছ থেকে পাঁচ হাজার ৭০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং প্রায় ২০ হাজার টাকার আসবাব ভাঙচুর করা হয়। পরে তারা সেখানে থাকা ব্যক্তিদের হুমকি দিয়ে চলে যান বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন জনকলাল দেশোয়ারা, আকাশ গোয়ালা, বিশ্ব প্রসাদ গোয়ালা ও গোপাল যাদব।
তবে চা শ্রমিকদের অভিযোগ, সোমবার শ্রীমঙ্গলের চৌমুহনায় মানববন্ধন শেষে র্যালি করে চা শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ের কাছে গেলে ইউনিয়নের নেতারা তাদের ওপর হামলা করেন। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন। আন্দোলনকারীদের দাবি, তাদের হয়রানি করতেই উল্টো তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারের আগে গীতা রানী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, র্যালিতে অংশ নেওয়ার সময় তাদের ওপর হামলা করা হয়।
তিনি বলেন, তারা প্রথমে ডিডিএল ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের দিকে র্যালি করার পরিকল্পনা করেছিলেন। এ কর্মসূচির জন্য পুলিশের অনুমতিও নেওয়া হয়েছিল।
গীতা রানীর অভিযোগ, চা শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ের বিপরীত পাশের সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের ওপর হামলা করা হয়। প্রথমে ইউনিয়ন নেতা দুলাল হাজরা তাদের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন। পরে ইউনিয়নের অর্থ সম্পাদক পরেশ কালিন্দী ও নেতা সুবাস রবিদাস কয়েকজন আন্দোলনকারীকে জোর করে ইউনিয়ন কার্যালয়ের গেটের কাছে নিয়ে যান। সেখানে নিপেন পাল, বালিশিরা ভ্যালির সভাপতি বিজয় হাজরাসহ আরও কয়েকজন তাদের মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
গীতা রানীর দাবি, হামলায় ১০-১২ জন আন্দোলনকারী আহত হন। তাদের মধ্যে কয়েকজন মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
তিনি জানান, আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে থানায় অভিযোগ করতে পারেননি। পরদিন থানায় গিয়ে জানতে পারেন, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধেই মামলা করা হয়েছে।
আরেক চা শ্রমিক নেতা আকাশ দোষাদও অভিযোগ করেন, যারা তাদের ওপর হামলা করেছে, তারাই পরে চা শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়ে সেই দায় আন্দোলনকারীদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছে।
তবে চা শ্রমিকদের ওপর ইউনিয়ন নেতাদের হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নিপেন পাল।
চা শ্রমিকরা দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা করা, পাঁচ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট বাতিল, ভূমির অধিকার ও ইউনিয়ন নির্বাচনসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন।

