শ্যামলীতে হাসপাতালে চাঁদা দাবি: মঈনসহ গ্রেপ্তার ৭

রাজধানীর শ্যামলীতে কিডনি চিকিৎসক কামরুল ইসলামের কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

আজ সোমবার সকালে এক বার্তায় র‍্যাব এ তথ্য জানায়। গ্রেপ্তারদের মধ্যে যুবদলকর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়া মঈন উদ্দিনও আছেন।

আরও আছেন, সুমন, মঈনের সহযোগী লিটন, মো. ফালান মিয়া, মো. রুবেল, মো. স্বপন কাজী ও মো. শাওন হোসেন।

রাজধানীর সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডিইউ) হাসপাতালের পরিচালক কামরুল ইসলাম এর আগে তার প্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবির অভিযোগ তোলেন।

গত ১১ এপ্রিল তিনি অভিযোগ করেন, নিজেকে যুবদল কর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়া মঈন উদ্দিন তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছেন, হাসপাতালের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করেছেন এবং কর্মীদের হুমকি দিয়েছেন।

তার অভিযোগ, মঈন উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয়ে ওই প্রতিষ্ঠানে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করে আসছিলেন। তিনি সম্প্রতি ‘অত্যন্ত আক্রমণাত্মক’ হয়ে ওঠেন।

কামরুল ইসলাম বলেন, ‘তিনি জোরপূর্বক হাসপাতালের খাবার সরবরাহের চুক্তি (কন্ট্রাক্ট) নিতে চাচ্ছিলেন এবং আমি এতে অস্বীকৃতি জানানোর পর থেকে তিনি নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন।’

এই চিকিৎসক অভিযোগ করেন, ১০ এপ্রিল মঈন উদ্দিন হাসপাতালের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মীর বাসায় ঢুকে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। ভয়ে ওই কর্মী নিজেকে একটি ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন।

পরে মঈন উদ্দিন আরও ৬০ থেকে ৭০ জনকে নিয়ে হাসপাতালে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

চিকিৎসক কামরুল আরও দাবি করেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তিনি বলেন, ‘পুলিশ এলেও তাকে আটক বা সরিয়ে দেওয়ার কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তাদের বেশ আতঙ্কিত মনে হচ্ছিল।’

পরে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

চিকিৎসক কামরুল জানান, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এবং কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ওই রাতে হাসপাতালে যান এবং তাকে আশ্বস্ত করেন যে, মঈন উদ্দিন তাদের সংগঠনের কেউ নন।

Related Articles

Latest Posts