শেষ মুহূর্তেও দেখা নেই ইলিশের, জেলেরা হতাশ

আগামী ৮ অক্টোবর থেকে ইলিশ ধরার ওপর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে। তবে শেষ মুহূর্তে এসেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশ পাচ্ছেন না জেলেরা। সরবরাহ কমায় বরিশালের পাইকারি বাজারে এক সপ্তাহে কেজিতে দাম বেড়েছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা।

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত বছরের তুলনায় এবার ইলিশের উৎপাদন কমেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পিরোজপুর বাদে বরিশাল বিভাগের পাঁচ জেলায় উৎপাদন হয়েছিল ৪৯ হাজার ৭৯০ মেট্রিক টন। ২০২৬ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ১৩৪ মেট্রিক টনে। আগস্টেও গত বছরের তুলনায় প্রায় এক হাজার মেট্রিক টন কম আহরণ হয়েছে।

পটুয়াখালীর আলিপুর মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শাকিল আহমেদ জানান, সাগরে এবার মাছ কম।

তিনি বলেন, গত বছর জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সাগরে ৩৩ হাজার ৯৩৪ মেট্রিক টন ইলিশ পাওয়া গিয়েছিল। এ বছর তা কমে ২৪ হাজার ৭৯ মেট্রিক টনে নেমেছে।

মাছের সরবরাহ কমায় দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বরিশালের পোর্ট রোড পাইকারি বাজারের মৎস্য ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম বলেন, আজ বাজারে প্রায় ২০০ মণ ইলিশ উঠেছে, যা গত সাত দিনের তুলনায় কম।

জহিরুল ইসলাম জানান, ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৭৬০ টাকায়। এ ছাড়া ৭০০-৯০০ গ্রামের ইলিশ প্রতি কেজি ২ হাজার ৫৬০ টাকা, ৫০০-৬০০ গ্রামের ইলিশ ২ হাজার ১৩০ টাকা এবং ৪০০ গ্রামের ইলিশ ১ হাজার ৫৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহের তুলনায় এই দাম কেজিতে ২৫০-৩০০ টাকা বেশি।

নিষেধাজ্ঞার আগে শেষ মুহূর্তে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় ইলিশ না পাওয়ায় হতাশ বরিশাল বিভাগের জেলেরা।

বরিশাল বিভাগীয় ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি ইসরাইল পণ্ডিত বলেন, ‘মাছ বেচে ধারদেনা শোধের আশায় ছিলেন জেলেরা। ইলিশ না পাওয়ায় দেনা আরও বাড়বে।’

তিনি নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের পরিবারপ্রতি ১০০ কেজি করে চাল বরাদ্দের দাবি জানান।

বিভাগীয় মৎস্য অফিস জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার সময় বরিশাল বিভাগের ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৫১৬ জন জেলেকে ২৫ কেজি করে মোট ৮ হাজার ৯৬২ মেট্রিক টন চাল দেওয়া হবে। এ ছাড়া সারা দেশে সহায়তা পাবেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ২৯০ জন জেলে।

Related Articles

Latest Posts