আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) বিচার সম্পর্কে শেখ হাসিনা ‘জানতেন না’ দাবি করে বিলম্ব মার্জনার কোনো সুযোগ পাবেন না বলে প্রসিকিউশন জানিয়েছে।
আজ রোববার ট্রাইব্যুনালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিম এ কথা জানান।
তিনি বলেন, ‘যারা পলাতক থাকে, তারা ফিরে এসে সবসময় একটা কথাই বলে—সেটি হলো, তিনি প্রসিডিং সম্পর্কে জানতেন না। তারা বলতে পারেন যে, “যেহেতু আমার অগোচরে হয়েছে, অতএব আমি এই তামাদি মওকুফ চাই। লম্বা বিলম্বের পরে আমি এসেছি আদালতে, আমি যেহেতু জানতাম না, আমাকে মার্জনা করে দেন, আমি বিচারের সম্মুখীন হতে চাই”।’
‘শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য আসামিরা এই অজুহাত কোনোভাবেই দিতে পারবেন না। কারণ তারা এই মামলা সম্পর্কে জানেন এবং বিভিন্ন বক্তব্য দিচ্ছেন। তারা ফিরে আসার কথা বলছেন এবং মামলাকে মিডিয়ার মাধ্যমে ডিফেন্ড করছেন,’ যোগ করেন এই প্রসিকিউটর।
গাজী তামিম আরও বলেন, ‘তারা ট্রাইব্যুনালে এসে এই সুযোগটা নিতে পারবেন না। তখন আমরা দেখাব যে তারা অলরেডি মামলার কথা জেনে বিভিন্ন সময় বক্তব্য দিয়েছেন।’
মামলার বিভার প্রক্রিয়ার কথা জানিয়ে প্রসিকিউটর বলেন, ‘এই মামলাটির অভিযোগ পাওয়া গেছে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে। তখন ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন হয়েছে। তারপরে প্রায় এক বছর হয়ে গেছে। আমি মনে করছি যে ট্রায়ালটা একদম যথোপযুক্ত হচ্ছে এবং যথানিয়মেই হচ্ছে। আমরা দ্রুতও করছি না, আমরা দেরিও করছি না। আইন অনুযায়ী ঠিক যেখানে যতটুকু সময় দেওয়ার, ঠিক ততটুকু সময় দিয়েই এই মামলাগুলো পরিচালিত হচ্ছে।’
প্রসিকিউটর বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে বাংলাদেশি আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বা দণ্ডাদেশের পরোয়ানা থাকলে ভারত আইনগতভাবেই তাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে পারে।’
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা সম্প্রতি বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ থাকা সত্ত্বেও তিনি ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করার পরিকল্পনা করছেন।

