উজবেকিস্তানের বিপক্ষে দুই গোল করলেও কলম্বিয়ার বিপক্ষে আবারও নিষ্প্রভ ছিলেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। হাতছাড়া করেছেন সহজ গোলের সুযোগও। এতে আবারও মাথাচাড়া দিয়েছে সেই একই বিতর্ক, রোনালদো কি এই পর্তুগাল দলের সাথে মানানসই কি না। তবে তাঁর সাবেক সতীর্থ নানি বলছেন, রোনালদো এই দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তো বটেই, বরং পুরো দলের উচিত রোনালদোর হয়ে অতিরিক্ত পরিশ্রম করা।
মায়ামিতে অনুষ্ঠিত পর্তুগাল ফুটবল সামিটে দ্য অ্যাথলেটিকের সাথে কথা বলতে গিয়ে নানি বলেছেন, ‘সবার উচিত মাঠে রোনালদোর সাথে আরও ভালোভাবে যোগাযোগ স্থাপন করা। সে এমন একজন খেলোয়াড় যে টুর্নামেন্টের শেষ পর্যন্ত গোল করে যেতে পারে। কিছু মানুষ মনে করছে সে খেললে দলের এনার্জি কমে যায়, প্রেসিংয়েও সমস্যা তৈরি হয়। কিন্তু এটা ভুলে গেলে চলবে না যে সে এমন একজন ফুটবলার, যে একাই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারে’।
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মেসির উদাহরণ টেনে নানি বলেছেন, রোনালদো অযথা মাঠে প্রয়োজনের অতিরিক্ত দৌড়ালে সেটা পর্তুগালের জন্যই ক্ষতিকর। বরং রোনালদোর হয়ে তাঁর বাকি সতীর্থদের মাঠে দৌড়াতে হবে বলে মনে করছেন তিনি, ‘আমাদের বুঝতে হবে, নেইমারের জন্য ব্রাজিলের বাকি খেলোয়াড়েরা দৌড়ায়। একই কাজ ফ্রান্স করে এমবাপের জন্য, আর্জেন্টিনা করে মেসির জন্য। মেসি মাঠে সবসময় হেঁটে বেড়ায়, কারণ সে শক্তি সঞ্চয় করে। বক্সের আশেপাশে সে সবচেয়ে ভয়ংকর। রোনালদোও কিন্তু তাই। তাই অযথা ৬০ গজ দৌড়ানোর কোনো মানে নেই। কিন্তু রোনালদো মাঠে হাঁটতে পারে না। তাঁর কাছাকাছি ডিফেন্ডারের কাছে বল থাকলে সে দৌড়ে তাকে চার্জ করে। এটাই তাঁর স্বভাব’।
রোনালদোর হয়ে কথা বলতে গিয়ে নিজের উদাহরণও টেনেছেন সাবেক এই পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড। ২০১৬ ইউরোতে কোচ সান্তোস তাকে নির্দেশনা দিয়েছিলেন রোনালদোর হয়ে মাঠে অতিরিক্ত দৌড়ানোর জন্য। পুরো টুর্নামেন্টে নানি ৮৪ কিলোমিটার দৌড়েছিলেন, যা দলের অন্য কারোর চেয়ে অন্তত ১৪ কিলোমিটার বেশি।
নানি চাইছেন, তিনি সেবার দলের জন্য যে আত্মত্যাগ করেছিলেন, এবারও পর্তুগাল দলের বাকিরা সেটাই করুক, ‘আমি দলের জন্য সেবার আত্মত্যাগ করেছিলাম। রোনালদোও তিন গোল করেছিল, আমিও সমান গোল করেছিলাম। কিন্তু আমি ক্রমাগত দৌড়ে গেছি পুরো টুর্নামেন্টে। হ্যাঁ আমরা হয়তো সবচেয়ে সুন্দর ফুটবল খেলিনি, কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আমরা জিতেছিলাম’।
বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত সেরা ছন্দে দেখা যায়নি পর্তুগালের মিডফিল্ডের অন্যতম বড় ভরসা ব্রুনো ফার্নান্দেজকে। এটির সমাধানও বাতলে দিয়েছেন নানি, আর তা হলো ব্রুনোকে রোনালদোর আরও কাছাকাছি খেলানো, ‘ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে প্রতিটা বল ব্রুনোর মাধ্যমে ফরোয়ার্ডদের কাছে পৌঁছায়। সেই মিডফিল্ডের প্রাণ হিসেবে থাকে। তবে পর্তুগাল দলে এই কাজটা এখন ভিতিনহা করছে। এ কারণে ব্রুনো হয়তো তার স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারছে না। এর সমাধান হলো তাকে রোনালদোর আরও কাছাকাছি খেলাতে হবে’।

