ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে যতই ঝড় উঠুক, মাঠে তার ছিটেফোঁটাও দেখা যাচ্ছে না পর্তুগালে। দলের সবচেয়ে বড় তারকাকে ছাড়াই আরও একটি জয় তুলে নিয়েছে বর্তমান নেশন্স লিগ চ্যাম্পিয়নরা। নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে চার ম্যাচে চার জয় নিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালও নিশ্চিত করেছে দলটি।
পর্তুগালের জয়ের নায়ক গনসালো রামোস। ম্যাচ শেষ হওয়ার ১১ মিনিট আগে তার গোলে নিশ্চিত হয় জয়। এই জয়ে গ্রুপ ‘এ৪’-এ শীর্ষ দুইয়ে থাকা নিশ্চিত করেছে পর্তুগাল। চার ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ১২, দ্বিতীয় স্থানে থাকা ডেনমার্কের চেয়ে ছয় পয়েন্ট এগিয়ে তারা।
অথচ কয়েক দিন আগেও পর্তুগালের আলোচনার কেন্দ্রে ছিল ফুটবল নয়, রোনালদো। কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে মতবিরোধের পর গত সপ্তাহে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান পর্তুগিজ মহাতারকা। তাকে ছাড়াই গত বৃহস্পতিবার ডেনমার্ককে হারিয়েছিল পর্তুগাল। এবার নরওয়ের বিপক্ষেও একই ধারাবাহিকতা ধরে রাখল তারা।
পোর্তোতে অবশ্য শুরুটা পর্তুগালের পক্ষে ছিল না। ৩৬ মিনিটে নরওয়েকে এগিয়ে দেন ক্রিস্টোফার আইয়ার। বক্সের বাইরে থেকে তার নিচু হয়ে আসা ভলি ঠেকানোর কোনো সুযোগই ছিল না পর্তুগাল গোলরক্ষকের।
তবে দুই মিনিট পরই ম্যাচে সমতা ফেরান জোয়াও ক্যানসেলো। বক্সের বাইরে থেকে তার জোরালো শট নরওয়ের জালে গিয়ে আছড়ে পড়ে। আইয়ারের গোল যদি ছিল দারুণ, ক্যানসেলোর জবাব ছিল আরও দুর্দান্ত।
শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন রামোস। জোয়াও ফেলিক্সের হেড করা বল তার দিকে এলে পায়ের পেছনের অংশ দিয়ে সেটিকে জালে পাঠিয়ে দেন তিনি। সেই গোলেই পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিশ্চিত হয় পর্তুগালের।
ম্যাচ শেষে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে খুব বেশি উচ্ছ্বাস না দেখালেও জয় ও কোয়ার্টার-ফাইনাল নিশ্চিত করাটাকেই বড় করে দেখেছেন কোচ জর্জ জেসুস, ‘নরওয়েকে হারাতে অনেক বেশি কারিগরি দক্ষতার প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, ‘ডেনমার্কের বিপক্ষে যেমন খেলেছিলাম, এবার তেমন পারফরম্যান্স করতে পারিনি। তবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল জয় এবং কোয়ালিফিকেশন। এই দলটির ওপর আমার অনেক বিশ্বাস ছিল। তবে প্রথম চার ম্যাচে চারটি জয় পাব, হয়তো এতটা আশা করিনি।’
জয় পেলেও ম্যাচের শেষটা অবশ্য স্বস্তির ছিল না পর্তুগালের জন্য। ম্যাচ শেষ হওয়ার চার মিনিট আগে লাল কার্ড দেখেন ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও। হলুদ কার্ড দেখার পর রেফারিকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে থাম্বস আপ দেখানোয় সঙ্গে সঙ্গেই দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে তাকে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দেন রেফারি।
অন্যদিকে গ্রুপ ‘এ৪’-এর আরেক ম্যাচে ওয়েলসকে ১-০ গোলে হারিয়েছে ডেনমার্ক। কার্ডিফে ডেনমার্ককে বেশ কিছুক্ষণ আটকে রেখেছিলেন ওয়েলস গোলরক্ষক ড্যানি ওয়ার্ড। শেষ পর্যন্ত ৭৫ মিনিটে গুস্তাভ ইসাকসেনকে ফাউল করে পেনাল্টি উপহার দেন তিনি। স্পট কিক থেকে গোল করে ডেনমার্ককে জয় এনে দেন রাসমুস হইলুন্দ।
গ্রুপ ‘এ২’-এ সার্বিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে গোল ব্যবধানে শীর্ষে উঠেছে নেদারল্যান্ডস। ৩১ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে সরাসরি গোল করে ডাচদের এগিয়ে দেন টেউন কুপমেইনার্স। চার মিনিট পরই সার্বিয়াকে সমতায় ফেরান ১৮ বছর বয়সী মিহাইলো স্ভেটকোভিচ, জাতীয় দলের হয়ে এটিই তার প্রথম গোল।
৭২ মিনিটে আবার এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। তিজানি রেইন্ডার্সের বাড়িয়ে দেওয়া বল জালে পাঠান জশুয়া জির্কজি। এই জয়ে গ্রুপে গ্রিসের সঙ্গে সমান পয়েন্টে থাকলেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে শীর্ষে উঠে গেছে ডাচরা।
অন্য ম্যাচে ঘরের মাঠে জার্মানির সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছে গ্রিস। পুরো ম্যাচে আধিপত্য ছিল জার্মানির, কিন্তু গোলের দেখা পায়নি তারা। নতুন কোচের অধীনে চার ম্যাচে এটি জার্মানির মাত্র একটি জয়।
গ্রুপ ‘বি৩’-এ কসোভোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেও শীর্ষে আছে অস্ট্রিয়া। আর আয়ারল্যান্ড ও ইসরায়েলের ম্যাচও শেষ হয়েছে একই ব্যবধানে। অন্যদিকে গ্রুপ ‘ডি২’-এ লিথুয়ানিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে শীর্ষে উঠেছে আজারবাইজান। গ্রুপ ‘ডি১’-এ অ্যান্ডোরিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়েছে মাল্টা।

