রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষমতা অর্জনে বিদ্যুৎকেন্দ্রে দিনব্যাপী উচ্চপর্যায়ের পূর্ণাঙ্গ জরুরি ও অগ্নিনির্বাপণ মহড়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাছান প্রকল্পের ইমার্জেন্সি কন্ট্রোল সেন্টারে থেকে সরাসরি মহড়ার সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা ও তদারকি করেন।
মহড়া শেষে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘মহড়ায় কাল্পনিক জরুরি পরিস্থিতি তৈরি করে তাৎক্ষণিক “প্ল্যান্ট ইমার্জেন্সি রেসপন্স” সক্রিয় করা হয়। আমাদের কারিগরি ও বিশেষজ্ঞ দলগুলো অনবরত প্ল্যান্টের প্যারামিটার পরীক্ষা, তেজস্ক্রিয়তা পর্যবেক্ষণ, আবহাওয়া মূল্যায়ন, বায়ুমণ্ডলে বিকিরণ বিস্তার বিশ্লেষণ এবং কর্মী ও আশপাশের জনগণের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিরূপণের মতো জটিল নিরাপত্তা মূল্যায়নগুলো নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করেছে। কোনো ধরনের বিরূপ পর্যবেক্ষণ বা ত্রুটি ছাড়াই মহড়াটি সফলভাবে সব ধরনের সংবিধিবদ্ধ প্রয়োজনীয়তা পূরণ করেছে।’
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কারিগরি সহায়তা প্রতিষ্ঠান ভিও সেফটি, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও ন্যাশনাল ক্রাইসিস সেন্টারের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা মহড়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।
এছাড়াও স্থানীয় জেলা প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, ফায়ার সার্ভিস ও বিশেষায়িত মেডিকেল টিম মহড়ায় সরাসরি অংশ নেয়।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক হিসেবে মস্কো থেকে আসা পারমাণবিক বিশেষজ্ঞদের একটি বিশেষ প্রতিনিধিদলও এতে উপস্থিত ছিল।
উল্লেখ্য, গত বছরের আগস্টে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার একটি বিশেষ ‘প্রাক-ওসার্ট’ মিশন রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা মূল্যায়ন করে। সেসময় বাণিজ্যিক উৎপাদনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আইএইএর পক্ষ থেকে অগ্নিনির্বাপণ, জরুরি সাড়াদান এবং পরিচালনগত তদারকি ব্যবস্থার আরও উন্নতির জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করা হয়েছিল।
আজকের সফল পূর্ণাঙ্গ মহড়ার মাধ্যমে রূপপুর কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সেসব নিরাপত্তা নির্দেশিকার সফল বাস্তবায়ন প্রদর্শন করে।
১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে গত ২৮ এপ্রিল প্রথম ইউনিটে সফলভাবে পারমাণবিক জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং শুরু হয়।
এর মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি তার মূল পরিচালন ধাপে প্রবেশ করে এবং শিগগির এটি জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য প্রস্তুত হবে।

