রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শনিবার এক হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হয়েছেন। সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা এই হামলা চালিয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে এমনটি জানানো হয়েছে।
বিবৃতি অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক ছাড়াও রয়েছেন দুজন বাংলাদেশি এবং একজন করে মার্কিন, মিশরীয়, জর্ডানীয়, সিরীয়, ফিলিস্তিনি ও সুদানি নাগরিক। আহতদের অনেকের অবস্থা গুরুতর বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
ইয়েমেনের রিয়াদ-সমর্থিত সরকারের সঙ্গে হুতিদের দীর্ঘদিনের যুদ্ধবিরতি গত জুলাই মাসে ভেঙে যায়। এরপর থেকেই ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা ও ট্যাঙ্কার লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালিয়ে আসছে।
সাধারণত বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার কথা সৌদি কর্তৃপক্ষ সচরাচর স্বীকার করে না। এ কারণেই দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ তাদের বিবৃতিতে হুতিদের নাম উল্লেখ করেনি।
তবে কূটনৈতিক একটি সূত্র জানিয়েছে, হুতিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র থেকেই এ ঘটনা ঘটেছে।
এই পরিস্থিতিতে রিয়াদের বিশাল এলাকাজুড়ে বিস্তৃত কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। হামলার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ এখনো চলছে।
হামলার পর ‘গুরুতর জরুরি পরিস্থিতি’ সামাল দিতে রেকর্ড সংখ্যক চিকিৎসককে জরুরি তলব করা হয়েছে। বিভিন্ন দেশের দূতাবাস তাদের নাগরিকদের বিমানবন্দর এলাকা এড়িয়ে চলার জন্য সতর্কবার্তা দিয়েছে।
যাত্রীদের একজন এএফপিকে জানান, তারা বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে হামলা হতে দেখেছেন।
ওই প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, আমি ৪০৩ নম্বর গেটে ছিলাম। তখন ৪০১ নম্বর গেটে আঘাত হানতে দেখলাম। চোখের সামনেই অনেককে আহত হতে দেখেছি। সবাই আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি করছিল।
রিয়াদে হামলার কয়েক ঘণ্টা পর ইয়েমেনের হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোট এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে একটি প্রজেক্টাইল বা ক্ষেপণাস্ত্রের মতো বস্তু আঘাত করেছে।
এরপর রোববার ভোরে জোট জানায়, তারা রাজধানী রিয়াদের দক্ষিণ-পূর্বে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করেছে।
গত বৃহস্পতিবারও হুতিরা বিমানবন্দর লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি হামলা চালানোর দাবি করেছিল, যাতে তিনজন নিহত হন এবং একটি বিমানের ক্ষয়ক্ষতি হয়। তবে শনিবারের নতুন হামলাগুলোর দায় তারা তাৎক্ষণিকভাবে স্বীকার করেনি।
দুজন চিকিৎসক এএফপিকে জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে মক্কায় গমনকারী বেশ কয়েকজন হজযাত্রীও রয়েছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এর আগে সৌদি আরব হুতি বিদ্রোহীদের দমনে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছিল, কিন্তু তখন তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল।
তবে চলমান পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, সৌদি আরবের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রও অংশ নিতে পারে।
শনিবার সাংবাদিকরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি হুতিদের ওপর সৌদি আরবের বিমান হামলায় যোগ দেওয়ার বিষয়ে তার আগের অবস্থানে পরিবর্তন এনেছেন কি না।
জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা যোগ দিতে পারি।’
তিনি আরও জানান, তিনি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে কথা বলবেন। একই সঙ্গে সৌদি আরবে যা ঘটেছে, তা ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

