দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হয়েছে।
নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট সমর্থিত লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে মোট ৩টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে।
এর মধ্যে একটি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে এবং দুটি কর্নেল (অব.) অলি আহমদের পক্ষে।
এর আগে, বিএনপির পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হিসেবে সই করেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান ও সমর্থক হিসেবে সই করেন স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
সকালে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের পক্ষে জমা দেওয়া মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হিসেবে জামায়াত আমির শফিকুর রহমান এবং সমর্থক হিসেবে এনসিপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল আমীন সই করেছেন।
একই জোটের পক্ষ থেকে এনসিপির নারী শক্তির সদস্য সচিব মাহমুদা মিতু প্রস্তাবক হিসেবে ও জামায়াতের সংসদ সদস্য আবদুল বাতেন সমর্থক হিসেবে সই করে অলি আহমদের পক্ষে আরেকটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়।
ইসি সচিবালয় জানিয়েছে, আগামী ১৬ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে এই তিন মনোনয়নপত্রের যাচাই-বাছাই শুরু হবে এবং একইদিন বৈধ প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা করা হবে।
তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
সচিবালয়ে বৈঠকের বিষয়ে বিএনপির বক্তব্য
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী চূড়ান্ত করতে সচিবালয়ে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের বৈঠক নিয়ে জামায়াত জোটের সমালোচনার জবাব দিয়েছে বিএনপি।
বিকেল ৩টার দিকে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
সচিবালয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠক প্রসঙ্গে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘সচিবালয়ে কোনো দলীয় মিটিং হয়নি, নিজেদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। এ ধরনের আলোচনা বাংলাদেশের যেকোনো স্থানে হতে পারে। দলীয় সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া ছিল এবং দলের চেয়ারম্যান তা আগেই ঘোষণা করেছিলেন।’
এ সময় রুহুল কবির রিজভীও বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেন, ‘এটি স্থায়ী কমিটির কোনো আনুষ্ঠানিক মিটিং ছিল না।’
বিরোধী দলের অভিযোগ প্রসঙ্গে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘এই নির্বাচনকে “নিয়ম রক্ষার নির্বাচন” বলার সুযোগ নেই।’
গণভোট বা সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কারের দাবির সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সরাসরি সম্পর্ক নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গণভোটের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কোনো বিরোধ নেই। বিরোধী দল নির্বাচন বয়কট না করে এতে অংশগ্রহণ করছে, এটিই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। এটি সংবিধান এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) সমন্বয়ে যথাযথ নিয়ম মেনেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে।’
সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানান, দক্ষিণ প্লাজায় সই করা ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে জুলাই সনদের প্রতিটি বিষয় আমরা বাস্তবায়ন করব। তবে সংবিধান একদিনে পরিবর্তন হয় না। বিরোধী দলসহ সবার মতামত নিয়েই আমরা প্রয়োজনীয় সংবিধান সংশোধন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চাই।’

