শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে প্রতিবাদের পাশাপাশি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষও। অভিনেতা ও নির্মাতারা এ ঘটনাকে ‘নৃশংস’ ও ‘বর্বর’ উল্লেখ করে দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
রামিসা হত্যাকাণ্ড নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারকে অভিনেতা ও নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ বলেন, ‘আমরা তো পিশাচ দেখিনি, শুধু নাম শুনেছি। কিংবা ভয় দেখিয়ে বলি পিশাচের মতো ভয়ংকর। রামিসাকে যে হত্যা করেছে সে তো মানুষ নয়, একটা ভয়ংকর পিশাচ। আমরা কোন সমাজে বাস করছি? আমরা কি পিশাচের সমাজে বাস করছি?’
তিনি বলেন, ‘এমন ঘটনা কি কেউ আশা করতে পারি? এইভাবে একটা ছোট্ট শিশুকে জীবন দিতে হলো? ওর পবিত্র মুখটা দেখলেই হাহাকার করে উঠি। কীভাবে কেউ পারে এমন জঘন্য কাজ করতে? সেজন্যই জোর দিয়ে বলছি, রামিসার খুনি মানুষ নয়, পিশাচ।’
বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে দায়ী করে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি বিচারহীনতার জন্যই এটা হচ্ছে। যদি প্রতিটি ধর্ষণ ও খুনের বিচার হতো, তাহলে উদাহরণ হয়ে থাকত। রামিসা হত্যার বিচার হোক। তাহলেই আমরা পিশাচমুক্ত সমাজ পাব। আমি প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ।’
নির্মাতা গিয়াসউদ্দিন সেলিম বলেন, ‘আমি মর্মাহত, আমি ক্ষুব্ধ। রামিসার বিষয়টি খুবই অসহনীয়। মেনে নেওয়ার মতো নয়। জাতি হিসেবে আমরা এতটা নিষ্ঠুর কবে থেকে হলাম? আগেই ছিলাম, নাকি নতুন করে হলাম—এটা আমাকে খুব ভাবাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘এসব নিয়ে চিন্তাভাবনার সময় হয়েছে। গভীরভাবে চিন্তা করতে হবে। রাষ্ট্রের যারা নীতিনির্ধারক, তারা একটু ভালো করে ভাববেন। রামিসার ঘটনা কোনো সুস্থ মানুষের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। এটা বর্বর ঘটনা।’
রামিসার হত্যাকারীর বিচার দাবি করে তিনি বলেন, ‘যে রামিসাকে খুন করেছে, তার বিচার হোক। কঠিন শাস্তি হোক। তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এমন ঘটনা আর না ঘটুক, সেই প্রত্যাশা করছি।’
অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন বলেন, ‘রামিসার ঘটনাটি একটি নৃশংস ঘটনা। তাকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছে। এটি আমাদের সমাজের জন্য ভয়াবহ এবং একই সঙ্গে লজ্জারও।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ব্যর্থ, রাষ্ট্রও ব্যর্থ। শিশুদের নিরাপত্তা দিতে পারি না। মেয়েটার কথা ভাবতেই ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। আমারও মেয়ে আছে। বিষয়টি আমাকে বেশি নাড়া দিচ্ছে।’
বিচারপ্রক্রিয়ার ধীরগতির সমালোচনা করে বাঁধন বলেন, ‘বিচারহীনতা বড় একটি বিষয়। বিচারগুলোতে দেরি হওয়াটাও বড় সমস্যা। আবার কখনো কখনো আসামিরা ছাড়া পেয়ে যায়। সব মিলিয়ে বিচারটা ঠিকভাবে হলে অপরাধীরা এত বড় অপরাধ করতে সাহস পেত না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি চাই রামিসা হত্যার বিচার হোক। এটা উদাহরণ হয়ে থাকুক। আমরা সবাই দেখি, বর্বরতার বিচার হয়েছে।’
অভিনেত্রী তানজিকা আমিন বলেন, ‘আমি বাকরুদ্ধ হয়ে আছি রামিসার ঘটনায়। শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায় আছি। ফেসবুকে ঢুকতে পারছি না। রামিসার ছবি দেখলে প্রচণ্ড কষ্ট পাচ্ছি। তার বাবা-মায়ের মুখ দেখে আরও কষ্ট হচ্ছে। কীভাবে সন্তানকে ছাড়া তারা বাঁচবেন—এটা ভেবে গা ছমছম করছে। তাদের কষ্ট মেনে নেওয়ার মতো নয়।’
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী রামিসার বাসায় গেছেন। নিশ্চয়ই রামিসার পরিবার ন্যায়বিচার পাবে। আমি বিচার চাই এবং দ্রুত বিচার চাই।’
তিনি বলেন, ‘আর একটি শিশুকেও যেন ধর্ষণ করা না হয়। কঠিন শাস্তি হোক। দ্রুত রায় হোক। মানুষ ভুলে যাওয়ার আগেই যেন বিচার হয়। বিকৃত রুচির মানুষ যেন এই বিচার দেখে ভয় পায়। বিকৃত মানসিকতার মানুষকে নির্মূল করতে হবে।’

