রান্নার সময় গরুর মাংস সবুজ হলো কেন, রহস্য খুঁজছেন কর্মকর্তারা

রান্নার সময় গরুর মাংসের রং বদলে হয়ে গেল সবুজ। খুলনার পাইকগাছায় অস্বাভাবিক এ দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত হয়ে রান্না করা মাংসের কড়াই নিয়ে থানায় হাজির হন রান্নার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় শুরু হয় আলোচনা। কেউ বলেন, মাংসে ভেজাল থাকতে পারে, কেউ আবার মনে করছেন, রান্নার সময় কোনো রাসায়নিক পরিবর্তনের কারণে এমন হতে পারে।

এমনকি নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারাও এ ঘটনা দেখে বিস্মিত।

পাইকগাছা থানা সূত্রে জানা যায়, পাইকগাছা পৌরসভার মর্ডান বেকারির কর্মচারীরা রান্নার সময় মাংসের রং সবুজ হয়ে যেতে দেখেন। এরপর তারা রান্না করা মাংসের কড়াই নিয়ে প্রথমে ইউএনও কার্যালয়ে ও পরে তার পরামর্শ অনুযায়ী থানায় হাজির হন।

ওসি জুলফিকার আলী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘গতকাল বিকেল ৪টার দিকে বেকারির কর্মচারীরা রান্না করা মাংসের কড়াই নিয়ে থানায় এসেছিলেন। তাদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়। কিন্তু তারা অভিযোগ দেননি। সবুজ হয়ে যাওয়া মাংস দেখিয়ে কড়াই নিয়ে চলে গেছেন।’

সাধারণত কাঁচা গরুর মাংসের রং লালচে বা গাঢ় লাল হয়ে থাকে। রান্নার সময় তাপের প্রভাবে মাংসের রং পরিবর্তিত হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু সবুজ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বাভাবিক কোনো পরিবর্তনের সঙ্গে মেলে না।

বেকারির কর্মচারী বিল্লাল হোসেন ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘মাংস রান্নার পর সবুজ রং হওয়ায় আমরা ফেলে দেই। স্থানীয়দের পরামর্শে বিষয়টি নিয়ে আর দৌড়ঝাঁপ করিনি।’

এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের খুলনা জেলা কর্মকর্তা ওয়ালিদ বিন হাবিব ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘মাংস এভাবে সবুজ হওয়ার কোনো উদাহরণ নেই। নষ্ট মাংস রান্না করলেও সবুজ হবে না। এরকম কোনো দৃষ্টান্ত আগে দেখাও যায়নি। আমার মনে হয় বেকারির কোনো রং বা কেমিক্যাল রান্নার সময়ে মাংসের মধ্যে পড়তে পারে।’

‘মাংসের রং পরিবর্তন মানেই তাতে ভেজাল বা বিষাক্ত কোনো পদার্থ মেশানো হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তেও সরাসরি পৌঁছানো যায় না। মাংসের অবস্থা, সংরক্ষণ, রান্নার পাত্র, রাসায়নিকের সংস্পর্শ এবং জীবাণুর কার্যক্রমসহ বিভিন্ন কারণে খাদ্যের চেহারায় পরিবর্তন আসতে পারে,’ বলেন তিনি।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ খুলনা জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তা মো. মোখলেছুর রহমান ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘এ ঘটনা নিয়ে কোনো কুলকিনারা খুঁজে পাচ্ছি না। এআই, গুগল কোথাও কোনো সমাধান খুঁজে পাইনি। নষ্ট মাংস রান্না করলেও তো সবুজ হয় না। রান্নার প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো গণ্ডগোল আছে।’

‘বেকারিতে রান্নার সময় যে কড়াই ব্যবহার হয়েছে, সেখানে কোনো কেমিক্যাল ছিল কি না, জানা যাচ্ছে না। বেকারিতে যে ধরনের কেমিক্যাল তারা ব্যবহার করে, সেগুলোর সংস্পর্শে কোনো বিক্রিয়া ঘটেছে কি না, সেটা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে জানা যাবে,’ বলেন তিনি।

নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মোখলেছুর বলেন, ‘২১ তারিখে গরু জবাই হয়েছে। ২২ তারিখে অভিযোগকারীরা ৪ কেজি মাংস কিনেছেন। অভিযোগকারী ছাড়া আরও কয়েকজন ওই গরুর মাংস কিনেছিলেন, তাদের ক্ষেত্রে অন্যরকম কিছু হয়নি।’

তিনি জানান, বিক্রেতার কাছ থেকে অবশিষ্ট মাংস সংগ্রহ করা হয়েছে। সেটি রোববার ঢাকার ল্যাবে পাঠানো হবে। প্রতিবেদন এলে বিস্তারিত জানা যাবে।

Related Articles

Latest Posts