রদ্রিকে নিয়ে মরিনহোর আক্ষেপ, ‘রিয়ালে দ্বিধার জায়গা নেই’

রদ্রিকে ঘিরে শেষ পর্যন্ত যে নাটকীয়তা হয়েছে, তাতে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা খেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডারকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত ম্যানচেস্টার সিটি ছেড়ে বার্সেলোনায় যোগ দিয়েছেন তিনি। নতুন ক্লাবে মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে উপস্থাপনও করা হয়েছে। আর রদ্রিকে হারানোর প্রসঙ্গে এবার মুখ খুলেছেন রিয়ালের নতুন কোচ জোসে মরিনহো।

রিয়ালের মাঝমাঠে রদ্রিকে ‘মিসিং পিস’ হিসেবে দেখা হলেও মরিনহো অবশ্য দাবি করেছেন, তার দল এই মুহূর্তে রদ্রির অভাব অনুভব করছে না। বরং বর্তমান স্কোয়াডের খেলোয়াড়দের আরও ভালো করে তোলার ওপরই তার আস্থা।

‘আমি রদ্রিকে মিস করছি না। আমাদের সমাধান আছে, মানসম্পন্ন খেলোয়াড় আছে। তারা এখন পর্যন্ত কী করেছে, সেটা দিয়েই আমি তাদের বিচার করি। তবে আমি বিশ্বাস করি, তাদের আরও ভালো করে তোলার সামর্থ্য আমার আছে,’ এল চিরিঙ্গিতোকে বলেছেন মরিনহো।

রদ্রিকে পাওয়ার জন্য রিয়াল যে চেষ্টা করেছিল, সেটিও গোপন করেননি পর্তুগিজ কোচ। এমনকি নিজেও স্প্যানিশ মিডফিল্ডারের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছিলেন তিনি, ‘আমি রদ্রির সঙ্গে দুবার কথা বলেছি। রিয়াল মাদ্রিদ তাকে খুব ভালো একটি প্রস্তাব দিয়েছে। ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গেও আমাদের সম্পর্ক খুব ভালো। ক্লাব তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং তার কিছুটা দ্বিধাও ছিল।’

তবে শেষ পর্যন্ত সেই দ্বিধাই রদ্রিকে রিয়াল থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে বলে মনে করেন তিনি। বার্সেলোনার কোচ হান্সি ফ্লিকের সঙ্গে আলোচনার পর রদ্রির সিদ্ধান্ত বদলানোর বিষয়টিও সামনে এসেছে। মরিনহোর মতে, রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবের ক্ষেত্রে কোনো খেলোয়াড়ের সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিতীয়বার ভাবার সুযোগ থাকা উচিত নয়।

‘আমার মনে হয়, তার দ্বিধাই আমার মধ্যে কিছুটা দ্বিধা তৈরি করেছিল। সে অসাধারণ একজন খেলোয়াড় এবং আমাদের জন্যও খুব ভালো হতো। কিন্তু আমি মনে করি, রিয়াল মাদ্রিদ এমন একটি উচ্চতার ক্লাব, যেখানে কোনো খেলোয়াড়ের দুবার ভাবার সুযোগ থাকা উচিত নয়,’ স্পষ্ট বার্তা মরিনহোর।

রদ্রির প্রতি শুভকামনাও জানিয়েছেন রিয়াল কোচ, যদিও সেটিও এসেছে মরিনহোসুলভ রসিকতায়, ‘তার জন্য শুভকামনা রইল। তবে খুব বেশি নয়।’

রদ্রিকে নিয়ে রিয়ালের আগ্রহ এতটাই ছিল যে, একটা সময় স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমে ধরে নেওয়া হয়েছিল, বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ই হতে যাচ্ছেন মরিনহোর নতুন প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দু। শেষ পর্যন্ত সেই সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হয়নি। বরং বার্সেলোনাই তাকে দলে টেনে নিয়েছে। তাতে স্প্যানিশ ফুটবলের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইকে আরও জমিয়ে দিয়েছে।

 

Related Articles

Latest Posts