রংপুরে মেডিকেলের শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সহপাঠীদের বিক্ষোভ

এক কলেজছাত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করার মামলায় রংপুর মেডিকেল কলেজের (রমেক) শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আহম্মেদ সাকিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছেন রমেকের শিক্ষার্থীরা। তারা অবিলম্বে সাকিনের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারসংলগ্ন মেডিকেল মোড়ে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। প্রায় এক ঘণ্টার অবরোধে মহাসড়কের উভয় পাশে যানজট সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই সাকিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি কেবল ওই কলেজছাত্রীর গৃহশিক্ষক ছিলেন। পুলিশ কোনো তদন্ত ছাড়াই একতরফা অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নিয়েছে।

রমেক শিক্ষার্থী কবিরুল ইসলাম বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে আমাদের এক শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাস থেকে নিয়ে পরে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়া এ ধরনের গ্রেপ্তার মেনে নেওয়া যায় না। পুলিশের আশ্বাসে আমরা অবরোধ তুলে নিয়েছি। দ্রুত এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত না হলে আমরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।’

পুলিশ জানায়, গত সোমবার বিকেলে রংপুর নগরের সেন্ট্রাল রোড এলাকার হোটেল নর্থ ভিউয়ের ছাদের রেলিং থেকে পড়ে কলেজছাত্রী নুজশাত জাহান (১৮) মারা যান। তিনি নগরের খলিফাপাড়া এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলামের মেয়ে এবং ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।

নুজশাতের পরিবারের অভিযোগ, নুজশাত আত্মহত্যা করেছে এবং এর পেছনে প্ররোচনা রয়েছে। এ ঘটনায় তার বাবা নজরুল ইসলাম শাহরিয়ার আহম্মেদ সাকিনসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন। এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বিকেলে সাকিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তার সাকিন নগরের ধাপ চিকলিভাটা এলাকার বাসিন্দা এবং রংপুর মেডিকেল কলেজের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী।

গতকাল বিকেলে পুলিশ হেফাজতে থাকার সময় নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন সাকিন। তিনি সাংবাদিকদেরকে বলেন, নুজশাত তার ছাত্রী ছিলেন এবং তাকে একতরফাভাবে পছন্দ করতেন। পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় তিনি নুজশাতের সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দেন এবং নম্বরও ব্লক করে দেন। এই মৃত্যুর জন্য তিনি দায়ী নন।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরপিএমপি) উপকমিশনার মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘ছাত্রীর বাবার মামলার ভিত্তিতেই সাকিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিজিটাল তথ্য, কল রেকর্ড ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনের চেষ্টা চলছে।’

Related Articles

Latest Posts