যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকে রোববার সই হচ্ছে না: ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিয়ে আলোচিত সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) রোববার সই হচ্ছে না বলে জানিয়েছে ইরান।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনকে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘সইয়ের সুনির্দিষ্ট সময় নিয়ে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। তবে এটি আগামীকাল (রোববার) হচ্ছে না।’

তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চুক্তিটি সই হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

এর আগে এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই একটি চুক্তি চূড়ান্ত করতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছিল মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান।

এদিকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারকটি দুই মাসের আলোচনার ফল এবং এর লক্ষ্য হলো যুদ্ধে ‘ইরানি জনগণের বিজয়কে সুসংহত করা’।

আইআরএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়, আরাঘচির মতে, আলোচনার ভিত্তিতে ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারকের খসড়া তৈরি হয়েছে। তবে চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত এর বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে না।

তিনি দাবি করেন, সম্ভাব্য সমঝোতায় সব ফ্রন্টে সংঘাতের অবসান, নতুন যুদ্ধ শুরু না করার প্রতিশ্রুতি এবং পারস্পরিক সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

তার ভাষ্য, ৪৭ বছরের মধ্যে এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র লিখিতভাবে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি ও সম্মান জানাবে।

আরাঘচি জানান, সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হলে উভয় পক্ষ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সই করবে। এরপর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ বিস্তৃত বিষয়ে একটি চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনা শুরু হবে, যা ৬০ দিনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘হুমকি ও চাপ কার্যকর হলে ইরান অনেক আগেই পিছু হটত। যদি সমঝোতা চান, তাহলে ভাষা পরিবর্তন করুন। কিন্তু যদি চাপ বা যুদ্ধের পথ বেছে নেন, তাহলে ইরান তার জবাব দিতে প্রস্তুত।’

এএফপির অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে যুদ্ধ থেমে যায়। এরপর থেকেই সংঘাতের স্থায়ী অবসান নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা চলছে।

Related Articles

Latest Posts