ইরানের সর্বোচ্চ নেতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতাদের যুদ্ধাপরাধী আখ্যা দিয়েছেন। একইসঙ্গে তাদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে ও বর্তমান নেতা মোজতবা খামেনি।
আজ রোববার এই তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা।
২০২৫ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে যেসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, সেগুলোর ন্যায়বিচার পেতে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন মোজতবা খামেনি।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি গত বছরের ১২ দিনের ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ ও চলতি বছরের ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যুগপৎ আগ্রাসনের দিকে ইঙ্গিত করেন।
তিনি এ বিষয়টিকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইরানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে মোজতবা খামেনি মত দেন, আন্তর্জাতিক অপরাধী, একরোখা ও ক্ষমতাবান বিদেশি শক্তি এবং আগ্রাসীরা আইন লঙ্ঘন করেছে।
তিনি দাবি করেন, ইরানের ওপর ‘যুদ্ধ চাপিয়ে’ দেওয়া হয়েছে এবং এতে দেশটির জনগণ বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে।
শত্রুদের সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের উদাহরণ হিসেবে তিনি মিনাব শহরে শিশুদের স্কুলে ও লামের্দ শহরে বেসামরিক স্থাপনায় হামলার কথা উল্লেখ করেন।
পাশাপাশি, নিজের বাবা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যাসহ আরও অসংখ্য নিরীহ মানুষকে হত্যার জন্য আগ্রাসীদের বিরুদ্ধে লাখো মামলা দায়েরের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন এই নেতা।
‘উপযুক্ত বিচারের জন্য ওই অপরাধীদের ঘাড়ে ধরে বিচারের কাঠগড়ায় ওঠানো উচিত’, মত দেন মোজতবা খামেনি।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ‘যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী শত্রুদের’ নেতারা তাদের অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছেন। তারা ‘গর্বের সঙ্গে’ এসব অপরাধ সংঘটনের ঘোষণা দিয়েছেন, যা ‘সন্দেহাতীতভাবে অপরাধ স্বীকার করে নেওয়ার’ সমতুল্য।
তিনি দাবি করেন, উভয় যুদ্ধে (২০২৫ সালে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের যুদ্ধ ও চলতি বছরে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যুগপৎ হামলা) সংঘটিত সব ধরনের অপরাধের তদন্ত করা হবে।
‘এই তদন্তের দায়ভার যোগ্য ব্যক্তিদের হাতে দেওয়া হয়েছে, যারা নিশ্চিত করবেন আগামীতে এ ধরনের আর কোনো অপরাধ যাতে না হয়’, যোগ করেন মোজতবা খামেনি।

