মেসির বিদায়ের খবর যখন পুরো ফুটবল বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছে, তখন বার্সেলোনার মাঠে যেন দেখা গেল তারই এক পুরোনো ছায়া। আর্জেন্টিনার হয়ে আর মাঠে না নামার ঘোষণা দিয়েছেন লিওনেল মেসি, এর ঠিক পরেই রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে বার্সেলোনার ৫-২ গোলের জয়ে জোড়া গোল করলেন লামিনে ইয়ামাল। আর দুটি গোলই যেন ফুটে তুলল মেসির সেই চেনা স্বাক্ষর।
গতকাল বিশ্বের প্রায় সব ক্রীড়া সংবাদমাধ্যমের প্রধান খবর ছিল মেসির জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা। সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার আর আর্জেন্টিনার জার্সিতে খেলবেন না, খবরটি প্রত্যাশিত হলেও এর প্রভাব ছিল একেবারেই অন্যরকম। ঘোষণার পরপরই শুরু হয় মেসির ক্যারিয়ারের মূল্যায়ন, অসংখ্য গোল ও ঐতিহাসিক মুহূর্তের স্মৃতিচারণ। একই সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে আক্ষেপ আর আবেগঘন প্রতিক্রিয়াও।
বিশ্বজুড়ে যখন মেসিকে নিয়ে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার ঢল, তখন বার্সেলোনাও যেন নিজেদের মতো করে স্মরণ করল ক্লাবটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তারকাকে। পাঁচ বছর আগে মেসিকে ছেড়ে দেওয়ার পর এখনো তাকে যথাযথ সম্মান জানানো বাকি, এমন আলোচনার মধ্যেই রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে ম্যাচটিকে নিজের মতো করে মেসিকে উৎসর্গ করলেন ইয়ামাল।
জোড়া গোল করে হয়ে উঠলেন যেন ‘পারফেক্ট ১০’। মৌসুমের প্রথম দুই গোল পেলেন ইয়ামাল। তবে গোল দুটির চেয়েও বেশি নজর কেড়েছে সেগুলোর ধরন। মেসিকে অসংখ্যবার যেভাবে গোল করতে দেখা গেছে, ইয়ামালের দুই গোলেই ছিল সেই একই ছাপ।
ম্যাচের দক্ষিণ প্রান্তে প্রথম গোলের সময় ডান দিক থেকে ভেতরে ঢুকে বল নিজের বাঁ পায়ে নেন ইয়ামাল। এরপর তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে শক্তিশালী বাঁ পায়ের শট নেন। বলটি গোলরক্ষকের নাগালের বাইরে দিয়ে একেবারে গোলের ওপরের কোণে গিয়ে জড়ায়। মেসির এমন গোল ফুটবলপ্রেমীরা কতবার দেখেছেন, তার হিসাব নেই।
প্রথম গোলের পরও যেন শেষ হয়নি মেসি-অনুকরণের গল্প। উত্তর প্রান্তে দ্বিতীয় গোলের সময় উইং ছেড়ে সতীর্থদের সঙ্গে আক্রমণে যোগ দেন ইয়ামাল। এরপর আদেয়েমির কাছ থেকে পাওয়া ক্রসটি অনেকটা ফিল্ড হকির পেনাল্টি কর্নারের মতো নিচু হয়ে আসে। সেখানে খুব বেশি শক্তি না দিয়ে নিখুঁত বাঁকানো শটে বলকে পোস্টের গোড়ার দিকে পাঠান ইয়ামাল। বলটি পোস্ট ঘেঁষে জালে জড়িয়ে যায়।
দুটি গোলই যেন বলে দিল, মেসির কাছ থেকে শেখা সেই ফুটবলীয় ভাষা নতুন প্রজন্মের পায়ে কতটা জীবন্ত হয়ে উঠেছে। আর ইয়ামালকেও মেসির উত্তরসূরি ভাবা হয়। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই বার্সেলোনার জার্সিতে তার পায়ের কারিকুরি, ড্রিবলিং, বাঁ পায়ে গোল করার দক্ষতা এবং ডান প্রান্ত থেকে ভেতরে ঢুকে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার ধরন অনেকটাই মনে করিয়ে দেয় মেসিকে। শুধু খেলার ধরন নয়, বয়সের সঙ্গে দায়িত্ব নেওয়ার ক্ষেত্রেও ইয়ামাল দ্রুতই নিজেকে আলাদা করে তুলেছেন। বর্তমানে খেলেনও মেসির সেই ১০ নম্বর জার্সি পরে।
তবে রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে বার্সেলোনার জয় কেবল ইয়ামালের জোড়া গোলের গল্প নয়। ম্যাচে দলের সেরা খেলোয়াড় ছিলেন রাফিনিয়া। যদিও আক্রমণে একের পর এক সুযোগ তৈরি করেও সেগুলোর অনেকগুলো কাজে লাগাতে পারেনি বার্সেলোনা। নিজেদের আধিপত্যের মধ্যেও সুযোগ নষ্টের কারণে শেষ পর্যন্ত কিছুটা ঝুঁকির মধ্যেই খেলতে হয়েছে তাদের।
তারপরও ৫-২ গোলের জয় দিয়ে মৌসুমের শুরুটা দারুণভাবে করেছে বার্সেলোনা। প্রথম তিন ম্যাচে পূর্ণ নয় পয়েন্ট তাদের ঝুলিতে। আর সবচেয়ে স্বস্তির বিষয়, ইয়ামালের মুখে আবার ফিরেছে সেই চেনা হাসি।

