মেসি এখনও বিশ্বের সেরা: রোনালদিনিয়ো

লিওনেল মেসির বয়স ৩৮ ছুঁইছুঁই। কিন্তু ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে থাকলেও ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদিনিয়োর চোখে ফুটবল দুনিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের সিংহাসনটা এখনও কাতার বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন মহাতারকারই। পুরোনো বন্ধুর সামর্থ্যের ওপর তার অগাধ আস্থা। তাই মেসির বিদায়ী বিশ্বকাপে আরও একবার সেই চিরচেনা জাদুর অপেক্ষায় বিভোর হয়ে আছেন রোনালদিনিয়ো।

আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ওলের সঙ্গে আলাপকালে রোনালদিনিয়ো বলেন, ‘সে (মেসি) এখনও বিশ্বের সেরা। আমি আশা করি, সে দারুণ ফর্ম নিয়েই বিশ্বকাপে অংশ নেবে এবং আমাদের মতো সমর্থকদের দারুণ কিছু উপহার দেবে।’

রাশিয়া বিশ্বকাপজয়ী ফরাসি স্ট্রাইকার কিলিয়ান এমবাপের বিধ্বংসী গতি, স্বদেশি উত্তরসূরি ভিনিসিউস জুনিয়রের শৈল্পিক ড্রিবলিং কিংবা স্প্যানিশ বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামালের রাজকীয় উত্থান— ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের বর্তমান সময়ের এই তারকাদের কাউকেই যেন মেসির সমতুল্য মনে হচ্ছে না রোনালদিনিয়োর। আভিজাত্য আর শ্রেষ্ঠত্বের বিচারে তার চোখে অনন্য উচ্চতায় আসীন মেসি। তাই মাঠের লড়াইয়ে বর্তমান প্রজন্মের দাপট থাকলেও তার হৃদয়ের সেরার মুকুটটি আজও একচ্ছত্রভাবে দীর্ঘদিনের বন্ধুর মাথাতেই শোভা পাচ্ছে।

মেসির সঙ্গে রোনালদিনিয়োর সম্পর্কটা বেশ পুরনো ও বিশেষ। মেসি যখন স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার মূল দলে জায়গা করে নিচ্ছিলেন, রোনালদিনিয়ো তখন ছিলেন কাতালানদের সবচেয়ে বড় তারকা। এই ব্রাজিলিয়ান জাদুকর ফুটবল থেকে অনেক আগেই অবসর নিলেও মেসি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলছেন। সম্ভবত নিজের শেষ বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন এই আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড।

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুটি জাতীয় দলের সদস্য হলেও বার্সার জার্সিতে প্রায় সাড়ে তিন বছর একসঙ্গে খেলেছেন দুজন। মেসির সঙ্গে ব্যক্তিগত রসায়ন নিয়ে রোনালদিনিয়োর ভাষ্য, ‘যখনই আমাদের একসঙ্গে হওয়ার সুযোগ হয়, সেটা দারুণ আনন্দের মুহূর্ত হয়ে দাঁড়ায়।’

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় একযোগে অনুষ্ঠেয় আগামী বিশ্বকাপ নিয়ে বেশ রোমাঞ্চিত জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপজয়ী রোনালদিনিয়ো। তার মতে, ‘সবগুলো দলই এখন খুব শক্তিশালী। তাই এবারের আসরটি আরও বেশি উত্তেজনাপূর্ণ হতে যাচ্ছে।’

গ্রুপ ‘জে’তে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন মেসির আর্জেন্টিনা খেলবে অস্ট্রিয়া, আলজেরিয়া ও জর্ডানের বিপক্ষে। এখন পর্যন্ত দুবার তারা অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হয়েছে প্রীতি ম্যাচে। একটিতে জিতেছে আলবিসেলেস্তেরা, অন্যটি শেষ হয়েছে সমতায়। অস্ট্রিয়ার মতো আলজেরিয়ার বিপক্ষেও শুধু প্রীতি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের। একমাত্র দেখায় ২০০৭ সালে ৪-৩ গোলে জিতেছিল তারা। তবে প্রীতি কিংবা প্রতিযোগিতামূলক কোনো পর্যায়েই এখন পর্যন্ত জর্ডানের মুখোমুখি হয়নি আর্জেন্টিনা।

Related Articles

Latest Posts