লিওনেল মেসি মাঠে নামলেই যেন নতুন ইতিহাস লেখা হয়। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। জর্ডানের বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমে ফ্রি-কিক থেকে গোল করে টানা সপ্তম বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার নজির গড়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৯ গোলের মালিকও এখন তিনি।
মেসির এই দুর্দান্ত ফর্ম দেখে নিজের প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। নরওয়েকে প্রথমবারের মতো নিজের ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তুলতে বড় ভূমিকা রাখা হালান্ড সামাজিক মাধ্যমে মেসির গোলের প্রতিক্রিয়ায় লিখেছেন, ‘মেসি আমাকে কখনোই বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট ছুঁতে দেবে না’।
হালান্ড নিজেও অবশ্য দুর্দান্ত ছন্দে আছেন। প্রথম দুই ম্যাচেই চার গোল করেছেন তিনি। নরওয়ে আগেভাগেই শেষ ষোলো নিশ্চিত করায় গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ফ্রান্সের বিপক্ষে তাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, কোচ লিওনেল স্কালোনি জর্ডানের বিপক্ষে শুরুর একাদশে নয়টি পরিবর্তন আনেন। ফলে ম্যাচের প্রথম ঘণ্টা বেঞ্চেই ছিলেন মেসি। তার অনুপস্থিতিতেই জিওভানি লো সেলসোর দুর্দান্ত ফ্রি-কিক ও লাউতারো মার্তিনেজের পেনাল্টি গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। উল্লেখযোগ্যভাবে, এবারের বিশ্বকাপে সেটিই ছিল আর্জেন্টিনার প্রথম দুই গোল, যা মেসির পা থেকে আসেনি।
৬০ মিনিটের পর মাঠে নেমেই অবশ্য ম্যাচের চিত্র আরও বদলে দেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। বল বেশি সময় নিজের কাছে না রেখেও আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠেন তিনি। তার উপস্থিতিতে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ আরও চাপে পড়ে, তৈরি হয় একের পর এক ফাঁকা জায়গা।
আর ৮০ মিনিটে আসে সেই প্রতীক্ষিত মুহূর্ত। বক্সের ঠিক বাইরে ফ্রি-কিক পেয়ে নিজের চিরচেনা ভঙ্গিতে নিচু শটে বল জালে পাঠান মেসি। সেই গোলেই বিশ্বকাপে টানা সাত ম্যাচে গোল করার নতুন ইতিহাস গড়েন তিনি। এর আগে এই রেকর্ড যৌথভাবে ছিল ফ্রান্সের জুস্ত ফঁতেন ও ব্রাজিলের জাইরজিনিওর।
এই গোলের মাধ্যমে এবারের বিশ্বকাপে মেসির গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬, যা এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও তাই তিনিই এগিয়ে।
ম্যাচ শেষে স্কালোনি জানান, চাইলে পুরো ৯০ মিনিটই খেলতে পারতেন মেসি। তবে নকআউট পর্বের কথা মাথায় রেখে তিনি নিজেই সতীর্থদের খেলার সুযোগ দিতে চেয়েছেন এবং নিজের শক্তি সঞ্চয় করেছেন।

