‘মানবতার কাজে নিজের সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে সিনেমার বিকল্প নেই’

ছাত্রজীবনে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র ছিলেন গাজী রাকায়েত। কিন্তু পরবর্তী জীবনে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন অভিনয় ও পরিচালনা। 

তার পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘মৃত্তিকা মায়া’। এই সিনেমাটি ১৭টি বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে, যা এদেশের সিনেমার ইতিহাসে একটি রেকর্ড।

তার পরিচালিত ‘গোর’ ১১টি বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পায়। আজ শ্রমিক দিবসে মুক্তি পেতে যাচ্ছে গাজী রাকায়েত পরিচালিত সিনেমা ‘মানুষটিকে দেখো’।

দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে নতুন সিনেমা সহ নানা বিষয় নিয়ে গাজী রাকায়েত কথা বলেছেন।  

নতুন সিনেমার বিষয়ে গাজী রাকায়েত বলেন, ‘মানুষটিকে দেখো বলতে মূলত মানুষের ভেতরের শক্তিটাকে দেখার কথা বুঝিয়েছি। সবাই বাইরের শক্তিকে দেখেন। গল্পটি চূড়ান্ত করার সময় মনে হয়েছিল অনেক শক্তিশালী একটি গল্প।’

‘সবাই যা দেখে আমি তা দেখতে চাই না। পেশাদার কাজ করি। আমার একটা সিনেমা থেকে আরেকটা সিনেমা ভিন্ন। লেখার ক্ষেত্রেও তাই। ভিন্নতা খুঁজি’, যোগ করেন তিনি। 

তিনি আরও বলেন, ‘এই সিনেমায় দুরারোগ্য রোগের বিরুদ্ধে লড়াই দেখা যাবে। রোগের নাম সেরিব্রাল পালসি। এ কাজটা ভালোবাসা থেকে করেছি। মূলত তিনটা মানুষের সংগ্রামের গল্প। একজন শিশু এবং দুইজন তরুণ-তরুণী। এই তিনজনই বিরল রোগে আক্রান্ত।’

এই সিনেমায় অনেক বিখ্যাত অভিনয়শিল্পীদের পাশাপাশি তিনজন নতুন অভিনেতা অভিনয় করেছেন। তিনজনই সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত। 

তাদের সম্পর্কে গাজী রাকায়েত বলেন, ‘নতুন তিনজনকে তিন মাস গ্রুমিং করতে হয়েছে। তারা খুব ন্যাচারাল অভিনয় করেছেন। একজন ছেলে, একজন মেয়ে এবং একজন শিশু। পাশাপাশি অন্য শিল্পীরা তো আছেনই।’

‘মানুষটিকে দেখো’ সিনেমাটি সিআরপির অর্থায়নে নির্মিত হয়েছে।

প্রযোজনা করেছেন হুমায়ুন ফরিদ।

গাজী রাকায়েত বলেন, ‘বাংলাদেশে এইরকম গল্প নিয়ে সিনেমা হয়নি। এই সিনেমায় একটি বিশেষ বার্তা থাকছে। কোনো ইস্যু ছাড়া সিনেমা হয় না। মানুষটিকে দেখো একইরকম একটি ইস্যু নিয়ে বানানো হয়েছে।’

‘মানবতার কাজে নিজের সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে সিনেমার বিকল্প নেই। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সিনেমা বানিয়েছি’, যোগ করেন তিনি। 

‘মানুষটিকে দেখো’ সিনেমায় মামুনুর রশীদ, তারিক আনাম খান, মিলি বাশার, শতাব্দী ওয়াদুদসহ আরও অনেকে অভিনয় করেছেন। গাজী রাকায়েত একজন মন্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

অন্য নির্মাতাদের সেরা সিনেমা সম্পর্কে গাজী রাকায়েত বলেন, ‘তানভীর মোকাম্মেল অসাধারণ সিনেমা বানিয়েছেন। ভারতীয় নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের অসাধারণ কিছু সিনেমা আছে। ইরানের সিনেমাগুলোর গল্প অনেক ভালো। আরও অনেক আছেন যারা এদেশে ভালো সিনেমা বানিয়েছেন।’

গাজী রাকায়েত বলেন, ‘ভ্যালেরি টেইলর আমার এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন। তার সম্পর্কে বলে শেষ করতে পারব না। বড় হৃদয়ের মানুষ তিনি। মাদার তেরেসাকে দেখিনি, কিন্তু ভ্যালেরি টেইলরকে দেখেছি।’

১ মে ‘মানুষটিকে দেখো’ রাজধানীর একটি মাত্র প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে। ধীরে ধীরে প্রেক্ষাগৃহ বাড়বে।

গাজী রাকায়েত বলেন, ‘বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা সিনেমাটি দেখাতে চাই।’

Related Articles

Latest Posts