কিংবদন্তি মাইকেল জ্যাকসনের বায়োপিক ‘মাইকেল’ ২৪ এপ্রিল সারাবিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশেও মুক্তি পেয়েছে। দেশের সিনেপ্লেক্সগুলোতে তাই মুক্তির প্রথম দিনেই সিনেমাটি দেখা গেছে।
একজন সংগীত প্রতিভার উত্থান দেখতে এবং ইতিহাসে তার গাওয়া সেরা গানগুলোর পারফরম্যান্স অনুভব করতে চাইলে ‘মাইকেল’ অবশ্যই দেখা উচিত। দর্শক হিসেবে সিনেমাটি মন জয়ের চেষ্টা করে অনেকাংশে সফলও।
তবে মাইকেল জ্যাকসনের পুরো জীবন এক সিনেমায় দেখার প্রত্যাশা নিয়ে হলে ঢুকলে কিছুটা হতাশ হতে পারেন। কারণ, গানের জীবনের বাইরে তার জীবনের বহু গুরুত্বপূর্ণ দিক এখানে অনুপস্থিত।
তবু মাইকেল জ্যাকসনকে অনুভব করতে এবং তার গানগুলোর আবেগে ডুবে যেতে চাইলে, ভক্তদের জন্য এটি অসামান্য এক অভিজ্ঞতা।
বায়োপিকে মাইকেলের শৈশবের দিনগুলো তুলে ধরা হয়েছে। বাবা জো জ্যাকসনের কঠোরতা ও নিষ্ঠুরতা, জোর করে ভাইদের সঙ্গে একটি মিউজিক্যাল গ্রুপে যুক্ত করা এবং জ্যাকসন ফাইভের হয়ে গান করার গল্প এসেছে। বেশি অর্থ আয়ের লক্ষ্যে বাবার হাতে তার প্রতিভার ব্যবহারের দিকটিও দেখানো হয়েছে।
একইসঙ্গে ছোটবেলার মাইকেলের ভেতরের কোমল মানুষটিকেও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। পশুপাখির প্রতি তার ভালোবাসা, একাকিত্ব এবং বন্ধুহীন জীবনের অনুভূতি দর্শককে ছুঁয়ে যায়।
সিনেমায় মায়ের প্রতি তার ভালোবাসা, দেহরক্ষীর প্রতি মমতা এবং ক্যাসেট কোম্পানির প্রযোজকদের সঙ্গে সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে এসেছে।
দ্বিতীয় ভাগে দেখা যায়, পিতা জো জ্যাকসনের প্রভাব থেকে বেরিয়ে সৃজনশীল স্বাধীনতা অর্জনের জন্য লড়াই। নিজের মতো করে অ্যালবাম তৈরি এবং লাইভ পারফরম্যান্সের জন্য কঠোর শারীরিক পরিশ্রমের ওপর ফোকাস করা হয়েছে।
মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্রে তারই তরুণ ভাতিজা জাফার জ্যাকসন অসাধারণ। চেহারা, নাচের মুদ্রা, কণ্ঠস্বর, শরীরের ভাষা—সবকিছুতেই তিনি মাইকেলের স্বাক্ষরকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। অনেক সময় তাকে দেখলে আসল মাইকেল বলে ভুল হওয়াও অস্বাভাবিক নয়।
জো জ্যাকসনের চরিত্রে কোলম্যান ডমিংগো এবং মা ক্যাথরিন জ্যাকসনের ভূমিকায় নিয়াহ লং স্বাভাবিক অভিনয় দিয়েছেন। লাটোয়া জ্যাকসনের চরিত্রে জেসিকা সুলাও নজর কাড়েন।
এছাড়া মোটাউন রেকর্ডসের প্রতিষ্ঠাতা বেরি গর্ডি, সংগীত নির্বাহী সুজান দে পাসে এবং ডায়ানা রসের মতো চরিত্রগুলোও গল্পে জায়গা পেয়েছে। এসব চরিত্রের মাধ্যমে মাইকেলের ক্যারিয়ারের পেছনের মানুষদের ভূমিকা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
তবে লক্ষণীয়ভাবে মাইকেলে ছোটবোন ও পপ সংগীতশিল্পী জ্যানেট জ্যাকসনের কথা সিনেমাতে উল্লেখ করা হয় নি।
সিনেমাটি শেষ হয়েছে জ্যাকসন ফাইভের ১৯৮৮ সালের একটি কনসার্ট দিয়ে। শেষাংশে সম্ভাব্য সিক্যুয়েলের ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে। ফলে ধারণা করা যায়, মাইকেলের জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় পরবর্তী কিস্তির জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে।
অ্যান্টনি ফুকো পরিচালিত ‘মাইকেল’ সিনেমায় তার বিখ্যাত গানগুলোর অনবদ্য পরিবেশনা রয়েছে। সব মিলিয়ে, মাইকেল জ্যাকসনের ভক্তদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে বড় একটি আয়োজন।

