ভেরিফিকেশনে নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রাথমিকের প্রার্থীদের শাহবাগে অবস্থান

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীরা রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন।

আন্দোলনকারীরা জানান, ভেরিফিকেশন বা পুলিশি যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হওয়ার পর তারা আর নিয়োগপত্র পাননি। আগামী ১ অক্টোবর অন্যান্য নির্বাচিত প্রার্থীর সঙ্গে তারাও চাকরিতে যোগ দিতে চান।

আজ সকাল ১১টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগ থানার সামনের রাস্তায় অবস্থান নেন প্রায় ১০০ জন নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থী। এর আগে সকাল থেকেই তারা কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হতে শুরু করেছিলেন।

আন্দোলনকারীদের একজন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমরা চাই আজই আমাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হোক। অন্যথায় আমাদের আন্দোলন চলতে থাকবে।’

বিক্ষোভকারীদের ভাষ্য, সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু ভেরিফিকেশন শেষে এখনো অন্তত দুই হাজার জন নিয়োগপত্র পাননি।

‘নিয়োগপত্রবঞ্চিত শিক্ষক’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে গতকাল রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।

জানা গেছে, পুলিশ ভেরিফিকেশনের পর প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দেওয়া শুরু হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্তদের আগামী ১ অক্টোবর নিজ নিজ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন গতকাল শনিবার জানিয়েছিলেন, আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে যারা নিয়োগপত্র পাবেন না, তাদের বিষয়টি পর্যালোচনা করে ধাপে ধাপে নিয়োগপত্র দেওয়া হবে। 

উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫ এর চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়, যেখানে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। এরপর গত মে মাসে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সব নির্বাচিত প্রার্থীর পুলিশ ভেরিফিকেশনের নির্দেশ দেয়।

তবে নিয়োগপ্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ায় এর আগে বারবার বিক্ষোভ করেছেন প্রার্থীরা। নিয়োগপত্র ও পদায়নের দাবিতে নির্বাচিত প্রার্থীরা এর আগে শাহবাগ ও মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছিলেন। গত ২৭ এপ্রিল অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ছত্রভঙ্গ করার সময় পুলিশের বিরুদ্ধে লাঠিপেটার অভিযোগ তুলেছিলেন বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী। যদিও পুলিশ সেই অভিযোগ অস্বীকার করে।

এরপর সরকার আগামী ১ অক্টোবর এই শিক্ষকদের চাকরিতে যোগদানের তারিখ নির্ধারণ করে।

Related Articles

Latest Posts