বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড ভিয়েতনাম যুদ্ধ-পরবর্তী দীর্ঘতম মোতায়েনের মার্কিন রেকর্ড ভেঙেছে।
বার্তাসংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল বুধবার রেকর্ড গড়া ফোর্ড প্রায় ১০ মাস সময়ের মধ্যে ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান এবং ইরান যুদ্ধ—উভয় ক্ষেত্রেই অংশ নেয়।
ইউএস নেভাল ইনস্টিটিউট নিউজের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, সমুদ্রে জাহাজটির ২৯৫তম দিনটি গত ৫০ বছরে কোনো বিমানবাহী রণতরির সর্বোচ্চ মোতায়েন সময়কে ছাড়িয়ে গেছে। এর আগে ২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারির সময় ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে ২৯৪ দিনের জন্য মোতায়েন করা হয়েছিল।
দীর্ঘ সময় ধরে বাড়ি থেকে দূরে থাকা সেনাসদস্যদের ওপর এর প্রভাব এবং জাহাজ ও সরঞ্জামের ওপর বাড়তি চাপ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে একটি অগ্নিকাণ্ডের কারণে জাহাজটিকে আগেই দীর্ঘ মেরামতের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।
এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের জুনে ভার্জিনিয়ার নরফোকে অবস্থিত নিজস্ব ঘাঁটি থেকে যাত্রা শুরু করে ফোর্ড ভূমধ্যসাগরের দিকে এগোতে থাকে। অক্টোবরে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় নৌবাহিনী সমাবেশের অংশ হিসেবে এটিকে ক্যারিবীয় সাগরে পাঠানো হয়।
তৎকালীন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের সামরিক অভিযানেও এই রণতরি অংশ নেয়। পরে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় এটি মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হয় এবং সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে।
এপি জানায়, ইরান যুদ্ধ শুরুর দিকে ভূমধ্যসাগর থেকেই এই রণতরি অভিযান চালায়। পরে সুয়েজ খাল অতিক্রম করে মার্চের শুরুতে লোহিত সাগরে যায়।
তবে জাহাজটির একটি লন্ড্রিতে অগ্নিকাণ্ডের কারণে এটিকে ঘুরে দাঁড়াতে হয় এবং মেরামতের জন্য আবার ভূমধ্যসাগরে ফিরে যেতে হয়।
ভার্জিনিয়ার সিনেটর টিম কেইন এপিকে বলেন, এই দীর্ঘ মোতায়েন ক্রুদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সামগ্রিক সুস্থতার ওপর ‘গুরুতর প্রভাব’ ফেলেছে। তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডের কারণে সাময়িকভাবে ৬০০ নাবিকের থাকার জায়গাও ছিল না।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘এমন একজন প্রেসিডেন্টের কারণে সারা বিশ্বে পাঠানোর বদলে তাদের প্রিয়জনদের সঙ্গে বাড়িতে থাকা উচিত। এই প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে নিজের প্রাসাদের প্রহরী হিসেবে ব্যবহার করছেন।’
পেন্টাগনের কর্মকর্তারা ফোর্ড কতদিন মোতায়েন থাকবে তা নির্দিষ্ট করে জানাননি। তবে নৌবাহিনীর দুই শীর্ষ কর্মকর্তা প্রকাশ্যে বলেছেন, তারা আশা করছেন জাহাজটি প্রায় ১১ মাস মোতায়েন থাকবে। সে ক্ষেত্রে মে মাসের শেষ দিকে এটি ঘাঁটিতে ফিরতে পারে।
মার্চের শেষ দিকে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজে এক আলোচনায় নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা অ্যাডমিরাল ড্যারিল কাউডল বলেন, ‘আপনারা ফোর্ডের একটি রেকর্ড ভাঙা মোতায়েন দেখতে যাচ্ছেন।’
জানুয়ারিতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ফোর্ডের মোতায়েন আরও বাড়ানোর বিরোধিতা করবেন। ফেব্রুয়ারিতে এপিকে তিনি জানান, যুদ্ধক্ষেত্রে নিয়মিত বড় বিমানবাহী রণতরি পাঠানোর বদলে তিনি ছোট ও নতুন জাহাজ ব্যবহারের পক্ষে।
এপি জানায়, নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ফোর্ডের এই মোতায়েনকে রেকর্ড হিসেবে ঘোষণা না করলেও ইউএস নেভাল ইনস্টিটিউট নিউজের তথ্য তারা অস্বীকার করেননি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরেকটি রণতরি ইউএসএস জর্জ এইচ. ডব্লিউ. বুশ মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। দুই সপ্তাহ আগে মোতায়েনের পর বর্তমানে এটি আফ্রিকার উপকূলবর্তী জলসীমায় অবস্থান করছে।
ফোর্ডের ২৯৫ দিনের মোতায়েন শীতল যুদ্ধকালীন সর্বোচ্চ রেকর্ড ছুঁতে পারেনি, যা এখন অবসরপ্রাপ্ত ইউএসএস মিডওয়ের দখলে। ১৯৭২ ও ১৯৭৩ সালে এটি ৩৩২ দিন মোতায়েন ছিল।

