ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার, শিগগির ফলাফল: চিফ হুইপ

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ১০১টি চুক্তি-সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সরকার পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা চুক্তিগুলো, মানে সব—১০১টা এমওইউ নিয়ে আমরা আলোচনা করছি এবং সেটা অনতিবিলম্বে ফল আপনারা পাবেন।’

আজ শুক্রবার জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন-পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারদলীয় অন্যান্য হুইপ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গতকাল এই সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শেষ হয়।

বিএনপি দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ঠিক রাখার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে চিফ হুইপ বলেন, ‘এই চেষ্টা যাতে করতে না পারি, সে জন্য কিছু মানুষ পরিশ্রম করে। তারা আমাদের বন্ধু না, তারা আমাদের শত্রু। সেই বন্ধুরা কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে, যাতে আমি ওপারে না যেতে পারি। তারা মুখে বলে বন্ধু, সেই বন্ধুরা আমাদের ফেলানীর লাশ কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখে।’

‘সেই বন্ধুরা আমাদের পোর্ট নিয়ে যায়। বাংলাদেশের জাহাজ, আর বন্ধুর বাড়ির জাহাজ একসঙ্গে যদি চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙ্গর করে, বন্ধুর বাড়ির জাহাজের মাল আগে খালাস হবে, পরে আপনার বাড়ির জাহাজের মাল। আপনার মাল চট্টগ্রাম বন্দরে আসলে আপনাকে বসে ক্ষতি গুনতে হবে, কিন্তু আমার বন্ধুর বাড়ির মাল খালাস হবে আগে। (আওয়ামী লীগ) সেই আইন করেছিল,’ যোগ করেন তিনি।

গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘১০১টি এমওইউ করেছে, এমওইউ-এর মধ্যে কী নেই আপনারা খুঁজে দেখবেন।’

চিফ হুইপ আরও বলেন, ‘আমার মাটি, আমার দেশ, আমার দেশের ওপর যে রাস্তা যাবে, সেই রাস্তায় আমার গাড়ি উঠতে পারবে না। আবার লোন নিয়েছি সেই রাস্তা করার জন্য, সেই লোনের সুদসহ টাকাও ফেরত দেবো। এই চুক্তি হয়েছে এবং এই দেশে চলে এখন (বহাল আছে)। আমরা কিন্তু এ রকম জায়গা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের কেউ শত্রু না, সবাই আমাদের বন্ধু। আমাদের দেশ আগে। এ জন্য তারেক রহমান বলেছেন, সবার আগে বাংলাদেশ।’

ব্রিক্স সম্মেলন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দাওয়াত যেখান থেকে পেয়েছি, তারা বলেছে ব্রিক্সের সভাপতি হিসেবে দাওয়াত করেছে, আমাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দাওয়াত করে নাই। আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম তারা সেই সম্মানটুকু দেখাবেন।’

অনেক সমস্যা-অব্যবস্থাপনা আছে এবং বিএনপি সরকার সেগুলো সহনীয় পর্যায়ে আনার চেষ্টা করছে বলে জানান তিনি।

আওয়ামী লীগ তার অলিগার্ক-টাইকুনদের সাহায্য করার জন্য বিদ্যুৎকেন্দ্র বসিয়ে রেখে লক্ষাধিক কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ দিয়েছে উল্লেখ করে নূরুল ইসলাম বলেন, ‘এই টাকা যদি প্রণোদনা হিসেবে বাংলাদেশের কারখানাগুলোকে, সব কারখানা বেঁচে যেত। বসিয়ে রেখে ক্যাপাসিটি চার্জ দেবো, যার কোনো উৎপাদন নেই—এক ছটাক বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে না, কিন্তু মাসে আমি তাকে ২৫ কোটি টাকা দেবো, সে ব্যাপারে আমি প্রশ্ন করতে পারবো না। আবার আদালতেও যেতে পারবো না।’

সম্পত্তি হস্তান্তর আইন নিয়ে বিরোধীদলের অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যারা এ রকম আইনের বিরোধিতা করে, তারা যেকোনো আইনের বিরোধিতা করতে পারে।’

‘এ রকম একটা আইনের বিরোধিতা করা মানুষরা সব কিছুর বিরোধিতা করে। আপনি এখানে বসেছেন কেন? এটার আমি বিরোধিতা করলাম। দাঁড়ালেন কেন, এটার বিরোধিতা করলাম; আপনি হাঁটলেন কেন, এটার বিরোধিতা করলাম; আপনি বসলেন কেন, আবার বিরোধিতা করলাম—ব্যাপারটা এ রকম,’ বলেন তিনি।

আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ চুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আদানি কয়লা আনবে অস্ট্রেলিয়া থেকে। জাহাজ আদানির, কয়লার ফিল্ড আদানির, যে ঘাটে নামবে সেটা আদানির, যে প্ল্যান্টে যাবে সেটা আদানির। যে বিদ্যুতের দাম ২ টাকা, সে বিদ্যুৎ আমরা ২০ টাকায় কিনেছি। ১৭ শতাংশ বিদ্যুতের ক্ষেত্রে আমরা বিদেশের ওপর নির্ভরশীল। ইনডেমনিটি ছিল, বিদ্যুতের ব্যাপারে সরকারকে প্রশ্ন করা যাবে না। শেখ হাসিনা এটা করে গিয়েছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকার বাতিল করেছে।

সম্পত্তি হস্তান্তর আইন নিয়ে ইসলামিক দলগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চিফ হুইপ গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ৩৩টি দল জুলাই সনদের আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছে। সংসদে প্রতিনিধিত্ব করে কয়টি দল? তার সংখ্যা কত? এটা বুঝে আপনারা বলবেন। যেকোনো একটি লোক এক জায়গায় দাঁড়িয়ে বললো যে, আমি একটা ইসলামিক দল। আমার একটা প্যাড আছে।

‘কথা বললে কী হবে? সে কথা বললো। আপনারা সেগুলো লেখেন কেন,’ গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে প্রশ্ন রাখেন তিনি।

Related Articles

Latest Posts